জার্মান অর্থনীতিবিদকে নেইমারের রসিক খোঁচা—‘আবারও ভুল’
বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনো গোল কথা বলে, কখনো ইতিহাস। কিন্তু এবার যেন সংখ্যার সঙ্গে মাঠের লড়াইয়ের এক অন্যরকম দ্বন্দ্ব চলছে। একজন অর্থনীতিবিদের হিসাব বলেছিল—ব্রাজিল হারবে, নেদারল্যান্ডস হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। অথচ মাঠের বাস্তবতা একের পর এক উল্টো গল্প লিখছে। আর সেই ভুল হিসাবের সুযোগে নেইমারের রসিক খোঁচাও থামছে না।
জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্টের তৈরি পূর্বাভাস মডেল নিয়ে বিশ্বকাপের আগে বেশ আলোচনা ছিল। তার বিশ্লেষণে ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে উঠে এসেছিল নেদারল্যান্ডসের নাম। এমনকি ফাইনালে পর্তুগালকে হারিয়ে ডাচদের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছিল।
কিন্তু সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় নকআউট পর্বের শুরুতেই। মরক্কোর বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় নেদারল্যান্ডস। ম্যাচের শেষ দিকে ইসা দিওপের গোলে সমতায় ফেরে মরক্কো। পরে অতিরিক্ত সময়েও ফল না আসায় টাইব্রেকারে ইয়াসিন বোনোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জয় নিশ্চিত করে আফ্রিকার দলটি। ইসমাইল সাইবারির শেষ পেনাল্টি মরক্কোকে এগিয়ে নেয় পরের রাউন্ডে।

আর এই ঘটনার পরই পুরোনো এক পোস্টের নিচে হাজির হন ব্রাজিলের তারকা নেইমার। ক্লেমেন্টের ভুল পূর্বাভাসকে ইঙ্গিত করে তিনি শুধু লিখলেন—‘আবারও ভুল।’
এর আগে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ নিয়েও একইভাবে ক্লেমেন্টের পূর্বাভাস ভেঙে দিয়েছিল মাঠের ফল। তার ধারণা ছিল, জাপানের কাছে হেরে বিদায় নেবে ব্রাজিল। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ভিন্ন কিছু।
জাপানের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় কার্লো আনচেলত্তির দল। কাসেমিরোর সমতাসূচক গোলের পর যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় ব্রাজিল। নেইমার সেই ম্যাচে মাঠে না নামলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছোট্ট মন্তব্যই আলোচনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। তখন তিনি ক্লেমেন্টকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন—‘মি. জোয়াকিম ক্লেমেন্ট, পরের বিশ্বকাপে আবার চেষ্টা করুন।’

ক্লেমেন্ট অবশ্য হঠাৎ আলোচনায় আসা কোনো নাম নন। ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বকাপের সম্ভাব্য বিজয়ী অনুমানের দাবি নিয়ে ফুটবল মহলে পরিচিতি পান তিনি। তার বিশ্লেষণ শুধু দলের শক্তি বা পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভর করে না; জনসংখ্যা, মাথাপিছু আয়, আবহাওয়া, র্যাঙ্কিংসহ নানা বিষয় যুক্ত করে তৈরি করা হয় তার মডেল।
তবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হয়তো এখানেই—সব হিসাবের পরও শেষ সিদ্ধান্ত আসে মাঠ থেকে। ৯০ মিনিট, কখনো ১২০ মিনিট, আর প্রয়োজন হলে টাইব্রেকারের কয়েকটি শট বদলে দিতে পারে পুরো গল্প।
এবারও তাই হচ্ছে। একদিকে ভেঙে যাচ্ছে পরিসংখ্যানের পূর্বাভাস, অন্যদিকে বেঁচে থাকছে মাঠের লড়াই। আর সেই ভুল হিসাবের ফাঁকেই নেইমারের হাস্যরস যেন যোগ করেছে বিশ্বকাপের আরেকটি ছোট্ট কিন্তু আলোচিত গল্প।
এসি//