খেলাধুলা

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের সেরা ৫ অঘটন!

বিশ্বকাপ মানেই শুধু শিরোপার লড়াই নয়, এই মঞ্চে জন্ম নেয় এমন কিছু গল্প—যেগুলো বছরের পর বছর ফুটবলপ্রেমীদের মনে থেকে যায়। বড় দল, বড় তারকা আর ইতিহাসের হিসাব অনেক সময় ৯০ মিনিটের মাঠে এসে থেমে যায়। আর তখনই কোনো এক অপ্রত্যাশিত দল লিখে ফেলে অবিশ্বাস্য এক অধ্যায়।

২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয়ও যোগ হয়েছে সেই তালিকায়। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্যারাগুয়ে দেখিয়ে দিয়েছে—বিশ্বকাপের মঞ্চে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

ফুটবল ইতিহাসের এমনই পাঁচটি বড় অঘটনের গল্প তুলে ধরা হলো —

১. জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ে (২০২৬)

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে খুব কম মানুষই ভেবেছিলেন, প্যারাগুয়ে জার্মানির মতো শক্তিশালী দলকে বিদায় করতে পারবে। বিশেষ করে গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর প্যারাগুয়ের পথ আরও কঠিন মনে হচ্ছিল।

কিন্তু সেই হতাশাই যেন তাদের শক্তিতে পরিণত হয়। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে প্যারাগুয়ের দৃঢ়তা আর গোলরক্ষকের পারফরম্যান্সে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে প্যারাগুয়ে শুধু পরের রাউন্ডেই ওঠেনি, বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের তালিকায় নিজেদের নাম লিখিয়েছে।

স্পট-কিক থেকে গোল করার পর প্যারাগুয়ের হোসে কানালের উল্লাস, যে গোলটি তাদের শেষ ষোলোতে উঠতে সাহায্য করেছে.

২. জার্মানি বনাম বুলগেরিয়া (১৯৯৪)

জার্মানির জন্য বিশ্বকাপের অঘটনের তালিকা নতুন নয়। ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে এমনই এক ধাক্কা খেয়েছিল তারা।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ায় বুলগেরিয়া। ২-১ গোলের জয়ে ইউরোপের শক্তিশালী দলটিকে বিদায় করে দেয় তারা।

সেই ম্যাচ প্রমাণ করেছিল, বিশ্বকাপে শুধু নাম বা অতীত সাফল্য দিয়ে জয় নিশ্চিত করা যায় না।

১৯৯৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের পর দ্বিতীয় গোলটি করার পর উল্লাস করছেন বুলগেরিয়ার ইয়োরদান লেচকভ

৩. ইতালি বনাম দক্ষিণ কোরিয়া (২০০২)

২০০২ বিশ্বকাপে সহ-আয়োজক দক্ষিণ কোরিয়া তৈরি করেছিল এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস।

শেষ ষোলোতে ইতালির বিপক্ষে শুরুতে এগিয়ে গেলেও ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফেরে দক্ষিণ কোরিয়া। অতিরিক্ত সময়ে গোল্ডেন গোলে জয় নিশ্চিত করে তারা।

২-১ ব্যবধানের সেই জয় দক্ষিণ কোরিয়াকে নিয়ে যায় সেমিফাইনাল পর্যন্ত। বিশ্বকাপে এশিয়ার কোনো দলের অন্যতম সেরা সাফল্যের গল্প হয়ে আছে সেই যাত্রা।

২০০২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ইতালিকে পরাজিত করার পর দক্ষিণ কোরিয়ার সেওল কি-হিউনের উল্লাস

৪. ব্রাজিল বনাম জার্মানি (২০১৪)

কিছু ম্যাচ হার নয়, হয়ে ওঠে দুঃস্বপ্ন। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে জার্মানির ৭-১ গোলের জয় ঠিক তেমনই একটি রাত।

নিজেদের মাটিতে খেলতে নেমে ব্রাজিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েও থেমে যায় জার্মানির ভয়ংকর আক্রমণের সামনে।

মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একের পর এক গোল হজম করে ব্রাজিল। পরে এই ম্যাচকে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে মনে করা হয়।

২০১৪ বিশ্বকাপে মিনেরাও স্টেডিয়ামে জার্মানির কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়ার পর ব্রাজিলের খেলোয়াড় ডেভিড লুইজ (4) এবং লুইজ গুস্তাভো (ডানদিকে) প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন

৫. মরক্কো বনাম পর্তুগাল (২০২২)

অঘটনের গল্পে মরক্কোর নাম এখন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলটি কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের। সবাইকে চমকে দিয়ে ১-০ গোলের জয় তুলে নেয় মরক্কো।

এই জয়ের মাধ্যমে মরক্কো হয়ে ওঠে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ।

মরক্কোর কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে যাওয়ায় পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো হতাশ হয়ে পড়েন

বিশ্বকাপ বারবার দেখিয়েছে—ফুটবল শুধু শক্তির খেলা নয়, এটি বিশ্বাস, সাহস আর এক মুহূর্তের অসাধারণ পারফরম্যান্সের গল্প। বড় দলগুলো যতই এগিয়ে থাকুক, বিশ্বকাপের মাঠে কখন যে ইতিহাস নতুন করে লেখা হবে, তা কেউ জানে না।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন