দেশজুড়ে

মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন মিথ্যা ধর্ষণ মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া সেই ইমাম

মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন না ফেনীর ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)। দেড় মাসে কারাজীবনের অসহনীয় মানসিক চাপ,  সামাজিক নিগ্রহ এবং চাকরি হারানোয় তিনি বর্তমানে তীব্র মানসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বর্তমানে তাঁকে রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, জেল থেকে মুক্তির পর মোজাফফর চরম ভারসাম্যহীন আচরণ করছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ছোট ভাইয়ের বাসায় রাখা হলে তিনি হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি তিনি স্বজনদের ওপর চড়াও হন এবং কামড়ে আহত করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বাধ্য হয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং পুলিশের সহায়তায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তারেক রেজা জানান,  জাতীয় পরিচয়পত্র এবং আইনগত অভিভাবক না থাকায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে চিকিৎসক ডা. সাঈদুল আশরাফুল কুশাল এই ভুক্তভোগী ইমামকে আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মোজাফফরের পরিবার ঢাকা পৌঁছালে তাকে আরও উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হবে

২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ফেনীর পরশুরাম উপজেলার এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইমাম মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩২ দিন কারাভোগের তিনি মুক্তি পান। তবে সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, ওই কিশোরীর গর্ভজাত সন্তানের সঙ্গে মোজাফফরের কোনো জৈবিক সম্পর্ক নেইডিএনএ পরীক্ষায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই মোরশেদের সঙ্গে শিশুটির ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গত ১৭ এপ্রিল আদালত মোজাফফরকে এই মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন