পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় রাতের আধাঁরে বিদ্যালয়ের তালা ভেঙ্গে ১১ টি ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসময় চোরেরা বিদ্যালয়ের একটি সাউন্ড বক্স ও সততা স্টোরের কিছু টাকা নিয়ে গেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দিনগত রাতে উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটে। বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, সকালে তারা বিদ্যালয়ে নিজ নিজ কক্ষে প্রবেশ করে ফ্যানের সুইচ দিতেই দেখে ফ্যান ঘোরে না। পরে উপরে তাকাতেই দেখে রুমে কোন ফ্যান নেই। দিনের বেলা প্রচন্ড গরমে ক্লাস করতে প্রচুর কষ্ট হচ্ছে বলেও তারা জানান।
রমেন চন্দ্র রায় নামে বিদ্যালয়ের এক ছাত্রের বাবা বলেন, সকালে ছেলেকে বিদ্যালয়ে দিতে এসে শুনি ১১টি ফ্যান নাকি চুরি হয়েছে। আসলে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা এর সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।
বুড়িরবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশীদ বলেন, আমরা প্রতিদিনের মত আজকেও সকালে এসে বিদ্যালয়ের তালা খুলি। পরে অফিসরুম এলোমেলো দেখতে পাই। টেবিলে জুতার ছাপ দেখি। উপরে তাকাতেই দেখি চারটি ফ্যান নেই। পরে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর রুমেও গিয়ে দেখি আরো ৭টি ফ্যান নেই। রাতের বেলা কে বা কারা বিদ্যালয়ের তালা ভেঙ্গে ফ্যানগুলো নিয়ে গেছে। তবে তারা বিদ্যালয়ের একটি সাউন্ড সিস্টেম ও সততা স্টোরে রাখা কিছু টাকা নিয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা ছুঁটির পরে চলে যাই কিন্তু স্থানীয়দের কাছে শুনতেছি কিছুদিন ধরে সন্ধ্যার পরে লোকজন নাকি এখানে আড্ডা দিচ্ছে। মাদক সেবন করছে। হয়তো তারাই এসব করছে। আমরা এখনো কোন অভিযোগ দেইনি থানায়। তবে আমাদের সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি বিষয়টি।
এ শিক্ষক জানান, চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি স্ক্রু ড্রাইভার রেখে গেছে চোরেরা। বিদ্যালয়ের কাঠের আলমারিতে রাখা ল্যাপটপ ও একটি প্রজেক্টরের সরঞ্জাম অক্ষত আছে।
এদিকে বিদ্যালয়ে এমন চুরির ঘটনায় স্তম্ভিত অভিভাবক সহ স্থানীয়রা। বিদ্যালয়ের মুল ক্যাচিগেট অক্ষত রেখেই চোরেরা বিদ্যালয়ের বারান্দার গ্রিল ব্যবহার করে দোতলায় উঠেছে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
সদর থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো কোন অভিযোগ করে নি। অভিযোগ করলে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
আই/এ