যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছে ইরান। এখন ওই প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাইরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
আরাঘচি জানান, কাতারের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন এতে সম্মতি দিলেই সাত দিনের সময় গণনা শুরু হবে।
তবে একই দিনে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ইরান ট্রাম্পের শর্তগুলো মানবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। এমনকি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে ফের হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়েও সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প—এমন দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সপ্তম দিনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ উভয় পক্ষের সম্মত বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েকটি দাবি জানিয়েছে ইরান। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানি তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড় এবং লেবানন ও ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।
তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
আরাঘচি বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। চাপ, হুমকি বা ভয় দেখিয়ে ইরানকে তার সার্বভৌম অধিকার থেকে সরে যেতে বাধ্য করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বলেছিলেন, যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। একই সময়ে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কাতারও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার পেজেশকিয়ানের সঙ্গে যুদ্ধের উত্তেজনা কমানো এবং নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাব্য শর্ত নিয়ে কথা বলেছেন।
এমএ//