যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সর্বশেষ জরিপে তার প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে ৩৭ শতাংশে। বিপরীতে, ৬১ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ জানিয়েছেন। ১৯৯০ সাল থেকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের পরিচালিত জরিপগুলোর মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য এটিই সর্বনিম্ন সমর্থনের হার।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময় তার প্রতি সমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সমর্থন কমেছে। রয়টার্স ও ইপসোসের ২১ সেপ্টেম্বরের জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার নেমে দাঁড়ায় ৩২ শতাংশে, যা তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন। একই জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তার কর্মকাণ্ডে মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেন।
জরিপে উঠে এসেছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিও জনমতকে প্রভাবিত করছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি মার্কিন নাগরিক। একই সময়ে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ মনে করেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার এই পতন তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৮২ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ শতাংশে নেমেছে। একই জরিপে প্রথমবারের মতো জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট রিপাবলিকানদের সংখ্যা সন্তুষ্টদের ছাড়িয়ে গেছে—৫১ শতাংশ বনাম ৪৪ শতাংশ।

অন্য জরিপেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার নিম্নমুখী চিত্র উঠে এসেছে। আমেরিকান রিসার্চ গ্রুপের জরিপে তার অনুমোদন ২৯ শতাংশে নেমেছে।
অন্যদিকে, হার্ভার্ড ক্যাপসের জরিপে তা ৪৪ শতাংশ। এসব জরিপের পদ্ধতি ও সময় ভিন্ন হওয়ায় সংখ্যাগুলোর মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে।
এদিকে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার প্রভাব মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ওপর কতটা পড়বে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
গ্যালাপের দীর্ঘমেয়াদি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যেসব মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুমোদন ৫০ শতাংশের নিচে থাকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের দলের প্রতিনিধি পরিষদের আসন গড়ে ৩৭টি কমেছে। তবে এটি ঐতিহাসিক গড়; আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে সরাসরি কোনো পূর্বাভাস নয়।
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। ফলে নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার এই পরিবর্তন মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি জনমত সূচক হিসেবে সামনে এসেছে।
সূত্র: টাইমস নাউ