আন্তর্জাতিক

শান্তি চায় ইরান, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে এখনও ‘অবিশ্বাস’ করে: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ মেটাতে এখনো আলোচনায় বসার আগ্রহ রয়েছে ইরানের। তবে এজন্য প্রথমেই প্রয়োজন দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন করা। এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন তিনি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

পেজেশকিয়ান বলেন, দুই দেশ আগে যেসব বিষয়ে লিখিতভাবে সম্মত হয়েছিল, সেগুলো উভয় পক্ষকেই মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট করতে হবে, ইরানের সরকার বা প্রশাসনের পতন ঘটানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিজেদের জায়গা থেকে বিবেচনা করার আহ্বান জানান পেজেশকিয়ান। তার প্রশ্ন, কোনো দেশের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করার পর যদি আগের সমঝোতাগুলোও মানা না হয়, তাহলে সেই দেশের মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই বিরোধের সমাধান চায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

তার অভিযোগ, আলোচনার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা, হুমকি ও সামরিক হামলা অব্যাহত থাকলে ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা রাখা কঠিন।

পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, হুমকি দিচ্ছে এবং হামলা চালাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনায় বসলে আগের লিখিত প্রতিশ্রুতিগুলো এবার বাস্তবায়ন হবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।

তবে আঞ্চলিক শান্তির সম্ভাবনা এখনো দেখছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে সহযোগিতা বন্ধ করে এবং শিশু, বেসামরিক মানুষ, হাসপাতাল ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বন্ধের উদ্যোগ নেয়, তাহলে ন্যায়সংগত ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথ তৈরি হতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়া এবং এর পর নতুন করে আলোচনা শুরুর বিষয়ে ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিয়ম নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মতপার্থক্য এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফলে যুদ্ধের অবসান ও পরবর্তী সমঝোতার আলোচনায় এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচলের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: আনাদুলো এজেন্সি

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #যুক্তরাষ্ট্র #ইরান #প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান #জাতিসংঘ