মাগুরার শ্রীপুরে ঘুমন্ত স্বামী রব্বি মন্ডলকে (৩৫) ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী ফারজানা বেগমের (২৭) বিরুদ্ধে। নিহত রব্বি মন্ডল পেশায় বালু ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি আমলসার ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম মন্ডলের ছেলে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনায় শ্রীপুর উপজেলার আমতৈল গ্রামের বাবার বাড়ি থেকে ফারজানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মাগুরার পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্লা আজাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে ফারজানা দাবি করেছেন, সংসারের প্রতি স্বামীর উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে আমলসার গ্রামের ফায়জার রহমানের মেয়ে ফারজানার সঙ্গে রব্বির বিয়ে হয়। তাদের পাঁচ বছর বয়সি একটি মেয়ে রয়েছে। প্রায় দুবছর আগে রব্বি বাড়ির অদূরে পশ্চিম রাজাপুর গ্রামে আলাদা বাড়ি করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
রব্বির মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকায় তিনি অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। ফারজানা বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। অসুস্থ স্ত্রী-সন্তানের যত্ন না নেওয়ায় রাব্বির প্রতি ফারজানার ক্ষোভ ছিল।
বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির বাইরে থাকার পর শুক্রবার ভোরে রব্বি ঘরে ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় ফারজানা ধারালো দা দিয়ে তাকে হত্যা করে পাঁচ বছরের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাবার বাড়ি আমতৈল গ্রামে চলে যান। সেখানে রক্তমাখা অবস্থায় ফারজানাকে দেখে তার বাবা ফায়জার রহমান ফোনে রব্বির বাবা নজরুল ইসলামকে বিষয়টি জানান।
এসপি মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, পারিবারিক কলহের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। স্বামীকে হত্যার কথা স্ত্রী পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রব্বির লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আর/আই