আইন-বিচার

‘এখন আর জামিন চাই না’, ট্রাইব্যুনালে দীপু মনি

বায়ান্ন প্রতিবেদন

ছবি: সংগৃহীত

‘ভালোবাসার মানুষ আমাকে প্রয়োজনের সময়ে পাননি। এখন বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। সন্তানরা আমার জামিন চায়। কিন্তু আমার বাসায় যাওয়ার তাড়া নেই।’—স্বামীর মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এভাবেই নিজের জামিনের আবেদন প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ শুনানির সময় এ আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানি পরিচালনা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি তদন্তাধীন মামলার নির্ধারিত কার্যক্রমে অংশ নিতে দীপু মনিসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি-মন্ত্রীসহ ১০ জনকে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানির সময় তাদের আসামির কাঠগড়ায় রাখা হয়।

একপর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আদালতের কাছে কথা বলার অনুমতি চান দীপু মনি।

অনুমতি পেয়ে তিনি জানান, তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেছেন। তবে প্রায় দুই বছর কারাগারে থাকলেও তিনি আদালতের সামনে ব্যক্তিগতভাবে কোনো কথা বলেননি। এবার নিজের জামিনের আবেদন প্রত্যাহার করতে চান বলে জানান তিনি।

এরপর স্বামীর দীর্ঘ অসুস্থতা ও মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দীপু মনি।

তিনি জানান, তার ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গী সাত বছর ধরে অসুস্থ ও বাকরুদ্ধ অবস্থায় শয্যাশায়ী ছিলেন। চোখের ইশারায় যোগাযোগ করতেন তিনি। সরকারের দায়িত্বে থাকার পাঁচ বছরও স্বামীর যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি তাকে আগলে রেখেছিলেন দীপু মনি।

তবে গত দুই বছর কারাগারে থাকায় স্বামীকে বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি। জীবনের শেষ সময়ে ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর পাশে থাকতে চাইলেও সেই সুযোগ পাননি বলেও উল্লেখ করেন দীপু মনি।

নিজের অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রয়োজনের সময়ে তার ভালোবাসার মানুষ তাকে পাশে পাননি। এখন বাসায় ফেরার প্রয়োজনও ফুরিয়ে গেছে। সন্তানরা তার জামিন চান, কিন্তু নিজের বাসায় যাওয়ার জন্য তার কোনো তাড়া নেই।

দীপু মনির বক্তব্যের সময় আদালতকক্ষে নীরবতা নেমে আসে। পরে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আদালতকে আরও অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হয় এবং উভয় পক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হয়।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দীপু মনির জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী। এর মধ্যে গত ১৮ আগস্ট তার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর প্যারোলে ১২ ঘণ্টার জন্য কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন সাবেক এই মন্ত্রী।

 

তবে বৃহস্পতিবার জামিনের আবেদন প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও প্রতিরক্ষা আইনজীবীর সম্মতিতে আবেদনটি আপাতত মুলতবি রেখেছে ট্রাইব্যুনাল। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ভালোবাসা #দীপু মনি #জামিন