দেশজুড়ে

‘ভূত’ আতঙ্কে নারায়ণগঞ্জের পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা

বায়ান্ন প্রতিবেদন

ছবি: সংগৃহীত

পোশাক কারখানায় কাজে এসেই একের পর এক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের ইউনিভার্সেল মেনসওয়্যার লিমিটেডে রোববার সকালে এমন ঘটনায় অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত কারখানায় এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

শ্রমিকদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করছেন, কারখানার ভেতরে ‘ভূতের আনাগোনা’র কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। তবে বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন কারখানা ও বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। তাদের পরিদর্শনে ভূত বা অস্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতির প্রমাণ মেলেনি। শ্রমিকদের অসুস্থ হওয়ার প্রকৃত কারণও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

কারখানার শ্রমিকদেরা জানিয়েছেন, এর আগের দিন শনিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত নতুন ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কর্মরত নারী শ্রমিকরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ শ্রমিকের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়ে যায়। পরে নির্ধারিত সময়ের আগেই কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। অসুস্থ শ্রমিকদের ইপিজেডের বেপজা মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

শনিবারের ঘটনার পর রোববার সকালে আবারও কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা। কিছু সময় পর আগের দিনের মতোই কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত কারখানা কর্তৃপক্ষ এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।

ইউনিভার্সেল মেনসওয়্যার লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক বিল্লাল হোসেন জানান, রোববার কারখানার প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ১৫ থেকে ২০ জন অসুস্থ হয়ে পড়লে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দিনের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

শ্রমিকদের কেউ কেউ ভূত দেখেছেন—এমন দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিকরা এমন কথা বলছেন, তাদের সেই কথা বলা থেকে বিরত রাখা সম্ভব নয়। তবে সচেতন মানুষ হিসেবে তারা বিষয়টিকে ভূতের ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। একই সঙ্গে কারখানার বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়েছেন, নির্দিষ্ট কোনো একটি জায়গায় এমন ঘটনা সীমাবদ্ধ ছিল না।

তিনি আরও জানান, ইপিজেডের অন্য অনেক কারখানার তুলনায় শ্রমিকদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনা করে তাদের কারখানায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারপরও শ্রমিকরা ঠিক কী কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, তা এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

আদমজী ইপিজেডের বেপজার অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক নাসরিন জানান, রোববারও পাঁচ থেকে সাতজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি দেখতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে কারখানাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সকাল থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করেন।

পরিদর্শনের সময় কারখানার পরিবেশে দমবন্ধ হয়ে আসা বা শ্বাসকষ্ট তৈরির মতো কোনো বিষয় চোখে পড়েনি বলে জানান তিনি। শ্রমিকদের মধ্যে ভূত দেখার কথা ছড়িয়ে পড়লেও এটিকে বাস্তব কারণ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। শ্রমিকদের অসুস্থতার প্রকৃত কারণ কী, তা নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান চলছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় রোববার কারখানাটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #পোশাক কারখানা #আদমজী ইপিজেড #নারায়ণগঞ্জ #সিদ্ধিরগঞ্জ #ভূত