দেশজুড়ে

জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জামায়াতের এক নেতার বিরুদ্ধে তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতার নাম শফিউল হাসানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা,ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন স্থানীয়রা। শফিউল উপজেলার ইসমাইলপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পাশের জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা জামায়াতের আমির।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে। বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল সকালে বৃষ্টির কারণে স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। তখন প্রধান শিক্ষক শফিউল হাসান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ক্লাসে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালানপরে মেয়েটি কৌশলে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। বাড়িতে ফিরে মেয়েটি পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনা জানায়।

আজ সকালে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে কিন্ডারগার্টেনে হামলা করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান (ছনি) ও বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে শফিউল আলমের মুঠোফোনে গণমাধ্যম একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জয়পুরহাট জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এস এম রাশেদুল আলম বলেন,  সম্প্রতি জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। শফিউল আলম অপরাধ করলে তাঁর বিচার আইন-আদালতে হওয়া উচিত।

তিনি দাবি করেন, একটি রাজনৈতিক দলের লোকজন শফিউল আলমের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ায় স্থানীয় লোকজনকে উসকে দিয়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন দেওয়া হয়েছে।

ওসি মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার থানায় এসেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #জামায়াত #ধর্ষণচেষ্টা