গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নিজেদের অস্ত্র ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল কমিটির কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে হামাস। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নেতা গাজি হামাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাদ বলেন, উভয় পক্ষ চুক্তির চূড়ান্ত পাঠ অনুমোদন করলেই ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল কমিটি এবং একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গাজায় প্রবেশ করবে। তারা ইসরায়েল-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণও তদারকি করবে।
তবে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে গাজি হামাদ বলেন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ পুরোপুরি নির্ভর করবে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের ওপর। তিনি স্পষ্ট করেন, অস্ত্র হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা থাকবে না; এ দায়িত্ব পালন করবে ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল কমিটি।
হামাদ আরও বলেন, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবুও হামাস এমন একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে, যা ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করবে।
এদিকে গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসনিক রূপান্তর তদারকির জন্য গঠিত বোর্ড অব পিস হামাসের এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এই প্রথম হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে এমন একটি বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা সব অস্ত্র ত্যাগ করবে। এর পরবর্তী ধাপে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে।
বোর্ড অব পিসের দাবি, কয়েক মাসের নিবিড় আলোচনার পর এই সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এর লক্ষ্য গাজায় নতুন প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানবিক সহায়তা জোরদার, পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ভিত্তি তৈরি করা।
এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, নাবলুস শহর ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামে ইসরাইলি সেনা ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১১ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
এছাড়া হেবরনের দক্ষিণে মাসাফের ইয়াত্তার খাল্লাত আল-হুমুস এলাকায় অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। একই সময়ে রামাল্লার উত্তরের আতারা গ্রামেও বসতি স্থাপনকারীদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কয়েকজন ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিক নাবলুসের ‘এরিয়া এ’-তে প্রবেশ করেছিল, যা ইসরাইলি আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ। পরে তারা এলাকা ছেড়ে গেছে। সেনাবাহিনী একটি কবরস্থান ভাঙচুরের অভিযোগ তদন্ত করছে বলেও জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গত মাসের শেষ পর্যন্ত অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের অন্তত ৩ হাজার ৩৩টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
এমএ//