বিশ্বকাপের মুকুট ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়েই ২০২৬ আসরের ফাইনালে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে সেই স্বপ্নের ইতি টানতে হয়েছে লিওনেল মেসিদের। এই পরাজয়ে শুধু শিরোপাই হাতছাড়া হয়নি, অধরাই থেকে গেছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডও।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিল আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্ট চলাকালে কিছু সময়ের জন্য এক নম্বর অবস্থান হারালেও সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আবারও শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করে তারা।
তবে ১৯৯৩ সালে ফিফা র্যাঙ্কিং চালুর পর থেকে একটি অদ্ভুত পরিসংখ্যান এখনো অটুট রয়েছে। র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থেকে কোনো দলই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে শীর্ষে থাকা জার্মানি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছিল। এরপর তিন দশক কেটে গেলেও সেই পরিসংখ্যান বদলায়নি। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
আরেকটি ইতিহাসও স্পর্শ করতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা দুটি শিরোপা জয়ের কীর্তি রয়েছে মাত্র দুটি দলের—ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৫৮ ও ১৯৬২)। তবে এই দুই সাফল্যই এসেছে জুলে রিমে ট্রফির যুগে।
বর্তমান বিশ্বকাপ ট্রফি চালুর পর এখন পর্যন্ত কোনো দলই টানা দুইবার শিরোপা জিততে পারেনি। আর্জেন্টিনার সামনে সেই রেকর্ড ভাঙার সুযোগ থাকলেও স্পেনের বিপক্ষে হারের পর সেটিও অধরাই থেকে গেল।
ফাইনালে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের দখলে। বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ সৃষ্টিতে প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল ইউরোপের দলটি। স্পেনের ধারাবাহিক চাপের মুখে পুরো ম্যাচজুড়েই রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল আর্জেন্টিনা।
শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে স্পেন।
স্কোরলাইন ব্যবধান ছিল মাত্র এক গোলের। কিন্তু মাঠের খেলায় দুই দলের পার্থক্য ছিল আরও বড়। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বড় ব্যবধানে হারার হাত থেকে রক্ষা করেন। তাঁর দৃঢ় উপস্থিতি না থাকলে স্পেনের জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
এসি//