আন্তর্জাতিক

খামেনি সবসময় জীবন্ত, আমি তাকে বিদায় জানাইনি, জানাবও না: পেজেশকিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তিনি কখনোই শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে বিদায় জানাননি এবং ভবিষ্যতেও জানাবেন না। তার ভাষায়, ‘আমি ঘোষণা করেছি এবং আবারও ঘোষণা করছি যে, আমি শহীদ নেতাকে বিদায় জানাইনি এবং কখনোই জানাব না। তিনি আমার হৃদয়, চিন্তা ও আমার সামনে সবসময় জীবন্ত আছেন এবং চিরকাল জীবন্ত থাকবেন।’

শনিবার (০৪ জুলাই) বিকেলে তেহরানে অনুষ্ঠিত ‘ইমাম খামেনি; প্রতিরোধের চিরন্তন নেতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। এ সময় তিনি ইসলামী বিপ্লবের নেতার শেষ বিদায় ও শোকযাত্রায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পেজেশকিয়ান আশা প্রকাশ করেন, এই ব্যাপক আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও সংহতিকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সন্ত্রাস, সহিংসতা এবং গণহত্যাভিত্তিক নীতির বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোর জনগণ আরও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে সক্ষম হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, শহীদ বিপ্লবী নেতার ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব, দৃঢ়তা ও মর্যাদা ভাষায় সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয়।

তার মতে, বিভিন্ন স্থানে লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, শোক এবং আবেগই প্রমাণ করে ইরানের জনগণ ও বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের কাছে তার অবস্থান কতটা গভীর।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আয়াতুল্লাহ খামেনি তার নেতৃত্বের পুরো সময়জুড়ে ইসলামী উম্মাহর ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি অসংখ্য বক্তব্য ও অবস্থান তুলে ধরেছেন, যা মুসলিম বিশ্বের জন্য পথনির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হবে।

পেজেশকিয়ান দখলদার ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এবং এর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনেরও সমালোচনা করেন।

তার দাবি, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পরিকল্পিতভাবে বিজ্ঞানী, মেধাবী ব্যক্তি এবং প্রভাবশালী নেতাদের হত্যা করা হচ্ছে। গাজা, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এসব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ইসলামী সমাজকে দুর্বল করা এবং পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা।

মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ঐক্যের আহ্বান শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং তা বাস্তব আচরণে প্রতিফলিত হতে হবে।

তিনি বলেন, মুসলমানদের এমন সব কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলা উচিত, যা বিভাজন ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ বাড়িয়ে দেয়। বরং ঐক্য বজায় রেখে জুলুম, আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

বক্তব্যের শেষাংশে মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতার শাহাদাত যেমন গভীর বেদনার, তেমনি তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণারও উৎস।

তার ভাষায়, আল্লাহর পথে পরিচালিত নেতাদের চিন্তা, আদর্শ ও বার্তা শাহাদাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে যায় না; বরং তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সত্য, ন্যায়বিচার ও প্রতিরোধের পথ দেখাতে অব্যাহত থাকে।

সূত্র: পার্সটুডে

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরান #প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান #আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি