কক্সবাজারের উখিয়ার তিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঘটনায় আরও এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার হয়েছে। বর্তমানে নিহত বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টায় কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ের একটি অংশ ধসে আলী আকবর (৫০) নামে এক বাসিন্দার বাড়ির ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা মাটিচাপা পড়েন।
স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য দুই সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাত প্রায় ১টা ১০ মিনিটে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। পাহাড়ধসে একটি বসতঘর চাপা পড়ে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
এর কিছুক্ষণ পর রাত প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটির নিচে চাপা পড়ে একরাম (৭) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।
এদিকে রাত প্রায় ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরও একটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩) নিহত হন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা জানান, কক্সবাজারে সারাদিনের টানা বৃষ্টিপাত রাতেও অব্যাহত ছিল। এর ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং কয়েকটি বসতঘর মাটিচাপা পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রথমে ১৫ নম্বর ক্যাম্পে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। অভিযান চলাকালে ডিএমসি কমিটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে ১১ নম্বর ক্যাম্পেও পাহাড়ধসের খবর পাওয়া যায়। এরপর সেখানে দ্রুত উদ্ধারকারী দল পাঠিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
পি/ডি