আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সামনে কোরআনের যে ৩টি আয়াত তিলাওয়াত করেছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকানুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দলের সামনে পবিত্র কোরআন থেকে ভিন্ন ভিন্ন আয়াত তিলাওয়াত করা হয়েছে। প্রতিনিধি দলভেদে আলাদা আয়াত নির্বাচনের এই আয়োজন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

অনুষ্ঠানসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রতিটি প্রতিনিধি দলের জন্য নির্বাচিত আয়াত সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাছাই করা হয়েছে। কোথাও শাহাদাতের মর্যাদা, কোথাও মুমিনদের ঐক্য, আবার কোথাও সতর্কতা ও আত্মসমালোচনার বার্তা বহনকারী আয়াত তিলাওয়াত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার (০২ জুলাই) তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পৌঁছায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। ১১ দলীয় জোটের নেতারা কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করলে তিলাওয়াত করা হয় সুরা আল ইমরানের ১৬৯ ও ১৭০ নম্বর আয়াত। ওই আয়াতে আল্লাহর পথে নিহত ব্যক্তিদের মৃত নয়, বরং তাদের প্রতিপালকের কাছে জীবিত ও সম্মানিত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আয়াতটিতে বলা হয়, ‘আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছেন, তাদেরকে তুমি কখনো মৃত মনে করো না; বরং তারা নিজেদের রবের নিকট জীবিত, তারা (তাঁর পক্ষ থেকে) রিযিকপ্রাপ্ত। আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন, তাতে তারা আনন্দিত এবং তাদের পেছনে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি (অর্থাৎ জীবিত আছে), তাদের জন্য তারা এ সুসংবাদ গ্রহণ করে যে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।’ 

এরপর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ শ্রদ্ধা নিবেদন করলে তিলাওয়াত করা হয় সুরা আল আহযাবের ২৩ নম্বর আয়াত। এতে সেইসব মুমিনের কথা বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার অটুট রেখেছেন। তাঁদের কেউ শাহাদাতের মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন, আবার কেউ তা পূরণের অপেক্ষায় রয়েছেন; তবে কেউই নিজেদের অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত হননি।

আয়াতটিতে বলা হয়েছে, ‘মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু পুরুষ রয়েছে, যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের কেউ কেউ নিজের মানত পূর্ণ করেছে (শহীদ হয়েছে), আর কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করেনি।’

বিদেশি প্রতিনিধি দলগুলোর শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠান দুই ধাপে আয়োজন করা হয়। প্রথমে উচ্চপর্যায়ের অতিথিদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সামরিক বাহিনীর মার্চপাস্টের মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়। এরপর প্রতিনিধিরা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে রণসংগীত থেমে যায় এবং একজন ক্বারী পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতার পরবর্তী পর্ব শুরু করেন।

দেশভেদে পৃথক কোরআনের আয়াত তিলাওয়াতের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি কূটনৈতিক অঙ্গনেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে আয়াত নির্বাচনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

 

এসি//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরান #আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি #বাংলাদেশ #কোরআনের আয়াত