ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৯৮০ জন। সর্বশেষ এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
শুক্রবার (২৬ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উত্তরাঞ্চলের উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরায়। সেখানে বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা ছিল ২৩৫ এবং আহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৩০০। আহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকট দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলভারাডো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানান, উত্তরাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ১০০টির বেশি ভবন ধসে পড়েছে। শুধু লা গুয়াইরা রাজ্যেই ৭০ হাজারের বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে সেখানে নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা ৪ হাজার ২০০ থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার ৫০০ করা হয়েছে।
এদিকে, জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এই দুর্যোগে হাজারো শিশু চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই তাদের সুরক্ষা ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
এক বিবৃতিতে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে পাওয়া ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত সহকর্মীদের বর্ণনা অত্যন্ত মর্মান্তিক।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশ এল সালভাদর থেকে অন্তত ১৮৮ জন উদ্ধারকর্মী ইতোমধ্যে দেশটিতে পৌঁছেছেন।
এর আগে এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইয়িব বুকেলে উদ্ধারকর্মী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং ৫০ টন ত্রাণসামগ্রী বহনকারী তিনটি বিমান ভেনেজুয়েলায় পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এমএ//