দেশে কাঁঠাল দিয়ে শিঙাড়া, সমুচা ও কাবাবসহ নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, কাঁঠালভিত্তিক এসব পণ্যের পুষ্টিগুণ বেশি এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও এর চাহিদা বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে জাতীয় ফল মেলা–২০২৬ উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। পরে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন কাঁঠাল দিয়ে শিঙাড়া, সমুচা ও কাবাবসহ বিভিন্ন ধরনের ফুড প্রোডাক্ট তৈরি হচ্ছে। এসব পণ্যের পুষ্টিমান তুলনামূলকভাবে বেশি। তার ভাষায়, কাঁঠালভিত্তিক পণ্যের “ফুড ভ্যালু হাই”।
তিনি জানান, কাঁঠালভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের কাছে তথ্য ও সহযোগিতা চেয়েছে। এসব দেশ কাঁঠাল ব্যবহার করে নতুন ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এখন ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছেন। এতে কৃষিপণ্যের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ছে এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হচ্ছে।
ফল রপ্তানি প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ইতোমধ্যে আম, আনারস ও কাঁঠাল রপ্তানি শুরু হয়েছে। চলতি বছরে কাঁঠাল রপ্তানি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ ছাড়া চীনের সঙ্গে ফল রপ্তানি সংক্রান্ত একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আগামী দিনে বাংলাদেশ ফল রপ্তানিতে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে। এ জন্য ফল উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজার সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।
প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ কমেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কৃষিখাতে বরাদ্দ কমেনি; বরং আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। প্রণোদনা ও উন্নয়ন বাজেটসহ কৃষিখাতে মোট বরাদ্দ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এমএ//