বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, রাজনীতির তাত্ত্বিক নেতা ও ‘রহস্য পুরুষ’ হিসেবে পরিচিত সিরাজুল আলম খানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২৩ সালের ৯ জুন ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
সিরাজুল আলম খান ১৯৪১ সালের ৬ জানুয়ারি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে দ্রুতই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে উঠে আসেন। ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের রাজনৈতিক প্রস্তুতিপর্বে সিরাজুল আলম খানের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলন, ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে তরুণ সমাজকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অন্যতম নেপথ্য কারিগর। তার অনুসারী ও কর্মীরা তাকে ‘দাদা’ নামে সম্বোধন করতেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স বা বিএলএফ, যা মুজিব বাহিনী নামেও পরিচিত, গঠনের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে আছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের সময়ও আলোচনায় আসেন সিরাজুল আলম খান।
শেখ মুজিবর রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠনের নেপথ্যেও তাঁর ভূমিকার কথা রাজনৈতিক ইতিহাসে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীতে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা গঠনের মতো টালমাটাল ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গেও তার নাম উঠে আসে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এক ব্যতিক্রমী চরিত্র। কোনো রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক সদস্য না হয়েও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতির ভেতরে-বাইরে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তার চিন্তা, কৌশল ও নেপথ্য ভূমিকার কারণে তাঁকে অনেকে ‘তাত্ত্বিক নেতা’ হিসেবে মূল্যায়ন করেন। আবার আড়ালে থাকা, প্রচারবিমুখ জীবনযাপন ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘রহস্য পুরুষ’ হিসেবে।
এমএ//