তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কক্সবাজারের বাসিন্দা, পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা। ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটকে মুখর দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলায় জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এছাড়াও, অসহনীয় গরমে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বাসাবাড়ি, হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সৃষ্টি হয়েছে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। দিনে-রাতে লোডশেডিংয়ের কারণে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।
পর্যটকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হোটেলগুলোর লিফট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) এবং অন্যান্য সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে লিফটে আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। ফলে আনন্দময় ছুটি কাটাতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলোকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে কয়েকগুণ বেড়েছে জ্বালানি ব্যয়। প্রতিদিন অতিরিক্ত হাজার হাজার টাকা খরচ হওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, ঈদের দিন ভোরে কলাতলী সাবস্টেশনের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে শহর ও হোটেল-মোটেল জোনে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে।
কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাদের গণি জানান, বিকল ট্রান্সফরমার মেরামতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আর/আই