পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে তাঁবুর নগরী মিনায় অবস্থান নিতে শুরু করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো হাজি। তাদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো মিনা প্রান্তর।
সৌদি আরব সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, রোববার রাত থেকেই ইহরাম বেঁধে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম অতিক্রম করে মিনায় পৌঁছাতে থাকেন আল্লাহর মেহমানরা। শুভ্র পোশাকে ছেয়ে যাওয়া মিনাজুড়ে এখন এক অন্যরকম আধ্যাত্মিক পরিবেশ। চারদিকে ইবাদত-বন্দেগি, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির ও দরুদ পাঠে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন হাজিরা।
হজের বিধান অনুসারে, মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়েই শুরু হয় হজের মূল প্রস্তুতি। হাজিরারা আজ পুরো দিন ও রাত মিনায় অবস্থান করবেন। এখানে তারা জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং আগামীকাল ৯ জিলহজের ফজরসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন জামাতে। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, মিনায় জামাতে এই নামাজ আদায় করা সুন্নত।
মঙ্গলবার ৯ জিলহজ মিনায় রাত্রিযাপন শেষে হাজিরা রওনা হবেন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে। সেখানে এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববির প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুজাইফি। খুতবার পর হাজিরারা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানেই অবস্থান করবেন। ইসলামে বলা হয়, আরাফাতে অবস্থানই হজের মূল অংশ।
সূর্যাস্তের পর হাজিরারা যাবেন মুজদালিফায়। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় শেষে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাবেন তারা। পরদিন ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে আবার মিনায় ফিরে বড় জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন হাজিরারা। এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পশু কোরবানি এবং মাথা মুণ্ডন কিংবা চুল ছোট করার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।
হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা ১১ ও ১২ জিলহজ সম্পন্ন করার পর ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগেই মিনার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন হাজিরারা।
এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে হজে অংশ নিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৭৮ হাজার মুসল্লি।
এসি//