দেশজুড়ে

রিকশাচালকের বুদ্ধিমত্তায় ধর্ষণ থেকে রক্ষা পেল শিশু

বায়ান্ন প্রতিবেদন

ছবি: সংগৃহীত

একটি চকলেটের লোভ আর রঙিন দুনিয়া ঘুরে দেখার আনন্দ—চার বছরের এক অবুঝ শিশুর কাছে এর চেয়ে বড় উপহার আর কী-ই বা হতে পারে! কিন্তু সেই সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে যে এত বড় এক কুৎসিত থাবা ওত পেতে ছিল, তা হয়তো ভাবতেও পারেনি শিশুটি। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে প্রতিবেশীর এমন চাতুর্যের শিকার হওয়া এক নিষ্পাপ শিশুকে শেষ মুহূর্তে এক রিকশাচালকের দেবদূতের মতো উপস্থিতিতে উদ্ধার করেছে র‍্যাব-১০। একই সাথে গ্রেফতার করা হয়েছে শাহ পরান নামের এক যুবককে। তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার শেখহাটি এলাকায়।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পের এক নির্জন ঝোপের আড়াল থেকে কান্নারত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুর পরিবার এবং অভিযুক্ত শাহ পরান—উভয়েই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ঝাউবাড়ি এলাকার হাফেজ মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন। শনিবার দুপুরে শিশুটির বাবা-মা ঘরে না থাকার সুযোগে শাহ পরান তাকে চকলেট কিনে দেয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যায়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে অটোরিকশা চালক মো. রাকাত হোসেন (৩৮) জানান, ওই যুবক শিশুটিকে সাথে নিয়ে ঝিলমিল এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে তার রিকশায় ওঠে। কিন্তু ভ্রমণের সময় যুবকের আচরণ ও কথাবার্তা দেখে তার মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। এরপর তিনি তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে নামিয়ে দেন।

রিকশাচালক আরও জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তিনি সেখান থেকে পুরোপুরি চলে না গিয়ে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। কিছুক্ষণ পরই তিনি দেখতে পান যুবকটি শিশুটিকে নিয়ে একটি ঝোপের আড়ালে চলে যাচ্ছে এবং সেখান থেকে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কাছাকাছি টহলরত র‍্যাব-১০ দলকে বিষয়টি জানান। খবর পাওয়া মাত্রই র‍্যাব সদস্যরা দ্রুত সেখানে অভিযান চালিয়ে কান্নারত শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত শাহ পরানকে হাতেনাতে আটক করে।

এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। অভিযুক্ত যুবক বর্তমানে র‍্যাবের জিম্মায় রয়েছে। র‍্যাব কর্মকর্তারা তাকে থানায় সোপর্দ করার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #শিশু #ধর্ষণ