ফেনীর পরশুরাম উপজেলার এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে এক মাস দুই দিন কারাভোগের পর অবশেষে ডিএনএ টেস্টে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)। পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ওই কিশোরীর সন্তানের জৈবিক পিতা তার আপন ভাই মোরশেদ।
দীর্ঘ তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর গত ১৭ এপ্রিল আদালতে দেয়া অভিযোগপত্রে মোজাফফরকে অব্যাহতি দিয়ে মোরশেদকে অভিযুক্ত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৯ সালে মক্তবের পড়াশোনা শেষ করে ওই কিশোরী। ২০২৩ সালে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর কিশোরীর পরিবার মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। মামলার পর মোজাফফর চাকরি হারান। ২৬ নভেম্বর তিনি মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে আদালতে গেলে সেখান থেকে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে এক মাস দুই দিন কারাভোগ করে ২৮ ডিসেম্বর জামিনে মুক্ত হন/ এরপরে তিনি আইনি লড়াই শুরু করেন।
মামলার তদন্তে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর মোজাফফরকে ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নেয়া হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষায় তার সঙ্গে কোনো ডিএনএ মিল পাওয়া যায়নি।
পরে পুলিশ কিশোরীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে সে স্বীকার করে, তার সহোদর বড় ভাই মোরশেদ দীর্ঘদিন তাকে ধর্ষণ করে। পরে ২০২৫ সালের ১৯ মে মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
ভুক্তভোগী ইমাম মোজাফফর আহমেদ জানান, এ ঘটনা পর তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। জেল থেকে বের হবার পর অন্য কোন মসজিদে তিনি চাকরি পাননি।
মামলার খরচ চালাতে বিক্রি করেছেন বসতভিটা। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়া ঘটনার পর তার বাড়ি ঘরেও হামলা চালায় স্থানীয়রা। তিনি প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি সরকারের কাছে তিনি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
আই/এ