রাশিয়ায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মো. রিয়াদ রশিদ (২৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত রিয়াদ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা ও জাফরাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।
শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রিয়াদের বন্ধু লিমন দত্ত মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর সংবাদটি পরিবারকে জানান। লিমন নিজেও রাশিয়ায় একই ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন এবং ড্রোন হামলায় একটি পা হারিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শনিবার (৮মে) করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লিমন জানান, ২ মে রুশ সীমান্তে ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোন হামলা চালায়। এতে রিয়াদসহ দুই বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরীয় নিহত হন। আহত হন তিনজন।
রিয়াদের পরিবার জানিয়েছে, রিয়াদ গত বছরের অক্টোবরে একটি কোম্পানির কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান। গত ৭ এপ্রিল তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তাঁর ব্যাচ নম্বর ছিল ৭৩৫। তবে সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়টি পরিবার আগে থেকে জানত না।
এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন বাবা আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন, সে যে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, তা আমাদের জানায়নি। জানলে আমি কখনোই তাকে সেখানে যেতে দিতাম না। এখন শুনছি ড্রোন হামলায় নাকি সব শেষ হয়ে গেছে। আমি আমার ছেলের লাশেরও সন্ধান পাচ্ছি না। বাবা হিসেবে এই কষ্ট কেমন করে সহ্য করব?
রিয়াদের চাচাতো ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, গত ২৮ এপ্রিল পরিবারের সঙ্গে রিয়াদের শেষ কথা হয়। ২৯ এপ্রিল রাত ১০টা পর্যন্ত তাঁকে মেসেঞ্জারে অনলাইনে দেখা গিয়েছিল।
এ বিষয়ে জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি নিহত ব্যক্তির পরিবারের খোঁজ নিয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক সহযোগিতার সুযোগ থাকলে আমরা অবশ্যই তার ব্যবস্থা করব।
আই/এ