ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার সময় ওয়াশিংটনের ভূমিকা “পেছন থেকে ছুরি মারার” মতো ছিল।
বুধবার (০৭ মে) ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, পেজেশকিয়ান দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কূটনৈতিক আলোচনাকে হুমকি, চাপ ও নিষেধাজ্ঞার দিকে ঠেলে দিয়েছে, যার ফলে তেহরান এখন ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা হারিয়েছে।
তিনি বলেন, দুই দফা আলোচনার সময়ই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যা আলোচনার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। তার ভাষায়, এটি “পেছন থেকে ছুরি মারার” সমান।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, কার্যকর আলোচনা সম্ভব হবে তখনই, যখন সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো আগ্রাসন হবে না—এমন নিশ্চয়তা দেয়া হবে।

তিনি স্ট্রেইট অব হরমুজ প্রসঙ্গে বলেন, ইরান ঐতিহাসিকভাবে এই জলপথের নিরাপত্তা রক্ষা করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক মার্কিন নৌ অবরোধ অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেন, অবরোধ প্রত্যাহার না হলে এই জলপথ নিয়ে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।
এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বেসামরিক অবকাঠামো ও জাহাজে হামলার নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে স্ট্রেইট অব হরমুজে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান।
ম্যাক্রোঁ বলেন, সব পক্ষকে শর্ত ছাড়া নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে আগের মতো পূর্ণ নৌ-স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি জানান, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে একটি বহুজাতিক নৌ মিশন গঠন করা হয়েছে, যা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আস্থা ফিরিয়ে আনবে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফরাসি বিমানবাহী রণতরী ‘শার্ল দে গোল’ মোতায়েন করা হয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরও জানান, তিনি বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও আলোচনা করবেন এবং ইরানকে ইউরোপীয় উদ্যোগে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
তার মতে, স্ট্রেইট অব হরমুজে স্থিতিশীলতা ফিরলে পারমাণবিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে কূটনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব হবে।
সূত্র: এএনআই
এসি//