আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে 'ধ্বংস করার পরিকল্পনা সৌদি আরবকে জানিয়েছিল ইরান। শনিবার (২ মে ) এই চাঞ্চল্যকর খবর জানিয়েছে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ইরানের এমন হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেহরান ওমান ও রিয়াদের কাছে ইঙ্গিত দিয়েছিলো, তারা আমিরাতে সামরিক হামলার বিষয়ে বিবেচনা করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ইঙ্গিত দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিভক্তি সৃষ্টি করার কৌশল করেছিল ইরান।
অনেকদিন যাবৎ সৌদি আরব ও আমিরাতের সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। সম্প্রতি জ্বালানি জোট ওপেক থেকে আমিরাতের সরে যাওয়ার ঘটনায় দুই দেশের দূরত্ব বেড়েছে। বিশ্লেষণকারীরা আরো ধারণা করছেন, ইরান নিয়ে এমন উত্তেজনা দুই দেশের পারস্পরিক সন্দেহ আরো বাড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কর্মকর্তারা সরাসরি সৌদি আরবকে জানান, তারা আমিরাতের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
এই পরিস্থিতিতে আমিরাতকে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইরান বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আমিরাতকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চলমান এই উত্তেজনায় আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আমিরাতকে সহযোগিতা করতে ইসরাইল উন্নত প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমেরিকা এই সংঘাত থেকে পিছিয়ে গেলে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ইরানের প্রভাব বাড়তে পারে। এমন আশঙ্কায় আরো দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে আমিরাত। দেশটির নেতারা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
এসব নানান হিসেব-নিকেষ মিলিয়ে বলা হয়, ইরান নিয়ে উত্তেজনা শুধু নিরাপত্তা ইস্যুতেই আবদ্ধ নেই। বরং উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করছে।
এমএ//