খেলাধুলা

শত্রুর ডেরায় ইরানের গোল উৎসব

স্পোর্টস ডেস্ক

লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের রাতটা শুরু হয়েছিল যেন শান্ত আকাশে হঠাৎ ঝড়ের মতো। কিন্তু মিনিট গড়াতেই সেই ঝড় রূপ নেয় একেবারে নাটকীয় ফুটবল কাহিনিতে—গোল, পাল্টা আক্রমণ, গ্যালারির বিভক্ত আবেগ আর মাঠের ভেতরের অদম্য লড়াই মিলিয়ে তৈরি হয় এক অনন্য স্পোর্টস থ্রিলার।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত জয়–পরাজয়ের হিসাব যেন দুলছিল দুভাগে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইরান ও নিউজিল্যান্ড কেউই একে অপরকে হারাতে পারেনি। ২-২ গোলে সমতায় শেষ হয় লড়াই—যা স্কোরলাইনের চেয়ে অনেক বেশি কিছু বলে গেল পুরো রাতজুড়ে।

নিউজিল্যান্ড শুরু থেকেই ম্যাচে চাপ তৈরি করে। ক্রিস উডের নিখুঁত পাস থেকে এলিজা জাস্টের ভলি গোলে এগিয়ে যায় তারা। সেই মুহূর্তে স্টেডিয়ামের একাংশে উল্লাস, আর অন্যদিকে নীরব উত্তেজনা—গ্যালারি যেন ভাগ হয়ে যায় দুই ভিন্ন বাস্তবতায়।

তবে ইরান দমে যায়নি। বরং ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজের ছন্দ খুঁজে নেয়। আক্রমণ আর চাপের মাঝেই আসে সেই মুহূর্ত—ডিফেন্সের ফাঁক গলে রামিন রেজাইয়ানের সুযোগসন্ধানী শট।

বল জালে জড়াতেই বদলে যায় ম্যাচের গতি, আর রেজাইয়ানের উদযাপন—জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে দৌড়—আরও রহস্য জুড়ে দেয় পুরো ঘটনায়।

ম্যাচ শেষে এমন উদযাপনের কারণ প্রসঙ্গে রেজাইয়ান বলেন, ‘এটা কিছুটা রাজনৈতিক ছিল। এ নিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।’ তবে তার কাছে মূল কথা ছিল ফুটবলই।

দ্বিতীয়ার্ধ যেন নতুন করে শুরু হওয়া আরেকটি ম্যাচ। আবারও এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড, ক্রিস উডের সাজানো আক্রমণ শেষ করেন জাস্ট—নিজের দ্বিতীয় গোলে। কিন্তু এই রাতের গল্প একতরফা হওয়ার ছিল না।

মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ইরান ফিরিয়ে আনে সমতা। রেজাইয়ানের নিখুঁত ক্রস থেকে মোহাম্মদ মোহেব্বির হেড—বলটি পোস্টে লেগে জালে ঢুকে পড়তেই স্টেডিয়ামে বিস্ফোরণের মতো উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। ২-২—আর এখান থেকেই শুরু হয় শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার লড়াই।

শেষ মুহূর্তে দুই দলই চেষ্টা করেছে জয় ছিনিয়ে নিতে, কিন্তু কেউই সেই শেষ স্পর্শটা খুঁজে পায়নি। ক্লান্তি, চাপ আর উত্তেজনার মাঝে ম্যাচ শেষ হয় সমতায়—যেন এক অসমাপ্ত উপন্যাসের শেষ পৃষ্ঠা।

নিউজিল্যান্ড কোচ হতাশ হলেও স্বীকার করেন, দল দুইবার এগিয়ে থেকেও জয় না পাওয়াটা বেদনাদায়ক। তবে পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টিও ছিল তাদের কথায়।

গ্যালারির বাইরেও ছিল আলাদা উত্তাপ। ইরানি প্রবাসীদের একাংশের বিক্ষোভ, জাতীয় সংগীত ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে মাঠের বাইরের পরিবেশও ম্যাচটিকে ছাপিয়ে যায় অনেক জায়গায়।

কেউ সমর্থনে, কেউ প্রতিবাদে—লস অ্যাঞ্জেলেস যেন পরিণত হয়েছিল রাজনৈতিক ও ক্রীড়া আবেগের এক মিশ্র মঞ্চে।

সব মিলিয়ে এই ম্যাচ শুধু একটি ২-২ ড্র নয়—এটি ছিল লড়াইয়ের গল্প, আবেগের সংঘর্ষ আর বিশ্বকাপের সেই অনিশ্চিত সৌন্দর্য, যেখানে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত থাকে না।

 

 

সূত্র: রয়টার্স

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরান #লস অ্যাঞ্জেলেস #ফুটবল