দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর টানা প্রায় দেড় দশক রাজ্য শাসন করছে দলটি। তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া বুথফেরত সমীক্ষাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে—রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
দুই দফায় সম্পন্ন হওয়া ২৯৪ আসনের এই নির্বাচনের পর বিভিন্ন সংস্থা যে বুথফেরত ফল প্রকাশ করেছে, তাতে একক কোনো সুস্পষ্ট চিত্র উঠে আসেনি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮ আসনের হিসাবকে কেন্দ্র করে দেখা যাচ্ছে পরস্পরবিরোধী পূর্বাভাস।
কিছু সমীক্ষায় বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে, এমনকি কোথাও তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি বা তা অতিক্রম করার অবস্থানে আছে বলে দাবি করা হয়েছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষায় তৃণমূল কংগ্রেসকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে দুই প্রধান শক্তির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে।
বিভিন্ন সংস্থার সমীক্ষায় দেখা গেছে—
ম্যাট্রিজ: বিজেপি ১৪৬–১৬১, তৃণমূল ১২৫–১৪০
চাণক্য স্ট্র্যাটেজি: বিজেপি ১৫০–১৬০, তৃণমূল ১৩০–১৪০
পিপল্স পাল্স: তৃণমূল ১৭৮–১৮৯, বিজেপি ৯৫–১১০
পি-মার্ক: বিজেপি ১৫০–১৭৫, তৃণমূল ১১৮–১৩৮
প্রজা পোল: বিজেপি ১৭৮–২০৮, তৃণমূল ৮৫–১১০
পোল ডায়েরি: বিজেপি ১৪২–১৭১, তৃণমূল ৯৯–১২৭
জনমত পোল্স: তৃণমূল ১৯৫–২০৫, বিজেপি ৮০–৯০
জেভিসি: বিজেপি ১৩৮–১৫৯, তৃণমূল ১৩১–১৫২
এই পূর্বাভাসগুলোতে কংগ্রেস ও বামফ্রন্টকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুবই দুর্বল অবস্থানে রাখা হয়েছে—কিছু ক্ষেত্রে প্রায় শূন্য বা অল্প কয়েকটি আসনের মধ্যেই তাদের সম্ভাবনা সীমিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার শেষ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ। দুই ধাপে মোট ২৯৪টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা ৯০ শতাংশেরও ওপরে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
আগামী ৪ মে ভোটগণনা অনুষ্ঠিত হবে। সেই দিনই পরিষ্কার হবে, রাজ্যের ক্ষমতার চাবিকাঠি শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার
এমএ//