গরম যেন হঠাৎ করেই দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশের গ্রীষ্ম মানেই তীব্র তাপদাহ, অস্বস্তিকর ঘাম আর ক্লান্তির এক দীর্ঘ দিন। তাপমাত্রা যখন ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছে যায়, তখন শুধু স্বস্তির জন্যই নয়—শরীর সুস্থ রাখার জন্যও প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। তবে সামান্য সচেতনতা আর দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিবর্তন আনলেই এই গরমেও থাকা যায় আরামদায়ক ও সুস্থ।
গরমের দিনে শরীর থেকে দ্রুত পানি বের হয়ে যায়, তাই পানির গুরুত্ব বাড়ে বহুগুণ। প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। এর পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত কিংবা ওরস্যালাইন শরীরকে দ্রুত সতেজ করে। অতিরিক্ত চা বা কফি পান না করাই ভালো, কারণ এগুলো শরীরকে আরও শুষ্ক করে তুলতে পারে।
খাবারের ক্ষেত্রেও দরকার একটু বেছে নেওয়া। ভারী ও তেল-ঝাল খাবার শরীরকে আরও ক্লান্ত করে তোলে। এর বদলে শসা, তরমুজ, বাঙ্গি, পেঁপের মতো পানিসমৃদ্ধ ফল খেলে শরীর সতেজ থাকে। টক দই বা লাচ্ছিও গরমে দারুণ উপকারী, যা শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

পোশাক নির্বাচনেও থাকতে হবে সচেতনতা। গরমে হালকা রঙের, ঢিলেঢালা সুতির কাপড় সবচেয়ে আরামদায়ক। এতে ঘাম কম জমে এবং শরীর সহজে শ্বাস নিতে পারে। গাঢ় রঙের পোশাক এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলো বেশি তাপ শোষণ করে।
ঘরের ভেতরের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। দিনের বেলায় জানালার পর্দা টেনে রাখলে রোদ কম ঢোকে এবং ঘর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে। ফ্যানের সামনে বরফ বা ঠান্ডা পানির পাত্র রাখলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়। প্রয়োজনে এয়ার কুলার বা এসিও ব্যবহার করা যেতে পারে।
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও জরুরি। দিনে প্রয়োজন অনুযায়ী ২ থেকে ৩ বার গোসল করলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং ঘামের কারণে ত্বকের সমস্যাও কমে। তবে গোসলের পর শরীর ও চুল ভালোভাবে মুছে নেওয়া উচিত, নইলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।
দৈনন্দিন অভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনলে উপকার পাওয়া যায়। দুপুর ১২টা থেকে ৩টার সময় সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, তাই এই সময়ে বাইরে কম বের হওয়াই ভালো। বাইরে যেতে হলে ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহার করুন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
সবশেষে, হিটস্ট্রোকের ঝুঁকির কথাও মাথায় রাখতে হবে। অতিরিক্ত গরমে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত ঘাম বা হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় আশ্রয় নেওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সামান্য সচেতনতা আর সঠিক অভ্যাসই পারে গরমের কষ্টকে অনেকটাই সহজ করে দিতে।
এসি//