বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া এখন সংসদে দেখতে পাচ্ছি। ওই সংসদে দাঁড়িয়ে অতীতে যেভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলা হতো, আজকে দু-একজন আমাদের লক্ষ্য করে সেই একই ভঙ্গিতে কথা বলা শুরু করেছেন। আমরা তাদের বলি, জিহ্বা সংযত করুন। এই মনোভাব এবং আচরণ দেখাবেন না। জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যে প্রজন্ম ও দেশ গড়ে উঠেছে, সেই দেশ কারো রক্তচক্ষু পরোয়া করে না।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (আইইডিবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘একসময় গণভোট হারাম, আবার অন্য সময় অর্ধেক হালাল। আমরা এটি পার্লামেন্টে বলেছি। আপনারা দেখেছেন আমাদের কণ্ঠ দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, আমরাও সমানতালে চালিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, সুযোগ পাই বা না পাই, আমরা কণ্ঠ বন্ধ করিনি’।
তিনি বলেন, দেশে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে এবং এই আন্দোলনকে তিলে তিলে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। এই আন্দোলন কোনো সুবিধাবাদী আন্দোলন নয়, ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারাও নয়। এই আন্দোলন ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে শহীদদের রক্তের ওয়াদা এবং জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য।
তিনি আরও বলেন, সংসদের এক-তৃতীয়াংশ সময় একজনের বদলে আরেকজনের প্রশংসায় ব্যয় হোক, এটি তাঁরা আর দেখতে বা শুনতে চান না। প্রশংসা হবে জনগণের। সংসদের ভেতর কথা হবে জনগণের সমস্যা নিয়ে এবং সেখানেই খোলামেলা সমাধান বের হতে হবে। এগুলো বাদ দিয়ে অন্য কিছুর চর্চা তাঁরা সংসদের ভেতর চান না।
১১ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার : সংকটের মুখোমুখি দেশ শীর্ষক এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম প্রমুখ।
আই/এ