বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা আরও ১০ শতাংশ বাড়ানোর বহুল আলোচিত প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ফলে তারা আগের নিয়ম অনুযায়ীই মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পাবেন।
রোববার (০৫ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় এই ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা হয়। ওই সিদ্ধান্তের বিষয়টি ইতিমধ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত উৎসব ভাতা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত নয়।
এর আগে মার্চ মাসের শুরুতে শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়ানোর একটি প্রশাসনিক অনুমোদন দেন শিক্ষা মন্ত্রী। পরবর্তীতে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ৫ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পেলে এটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু সর্বশেষ সিদ্ধান্তে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় আসন্ন উৎসবে বাড়তি ভাতার আশা আপাতত থেমে গেল।
প্রসঙ্গত, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের সমপরিমাণ উৎসব ভাতার দাবিতে আন্দোলন ও দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্তমানে তারা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উৎসব ভাতা পান। নতুন প্রস্তাবে এটি ৬০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল।
মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই ভাতা ১০ শতাংশ বাড়ালে সরকারের বার্ষিক ব্যয়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতো। মূলত বাজেট সংকট ও আর্থিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়নি। তবে ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গেছে।
এসি//