গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গার্মেন্টস শ্রমিক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি বাস চুরি করে তা বগুড়ায় নিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণভাবে কেটে টুকরো টুকরো করে বিক্রি করার সাথে জড়িত চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কালিয়াকৈর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বায়ান্ন টিভিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায় , গত ১২ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে কালিয়াকৈরের কালামপুর এলাকার মাটিকাটা ডালাস গার্মেন্টসের সামনে “জুনায়েদ পরিবহন”-এর (ঢাকা মেট্রো-জ-১৪-০৫২৬) একটি শ্রমিকবাহী বাস দাঁড় করিয়ে রেখে পাশের একটি দোকানে চা পান করতে যান বাসটির চালক সবুজ। এই সুযোগে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা সংঘবদ্ধ চোরচক্র বাসটি চুরি করে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বাসটির মালিক জাকির হোসেন কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর আলম আজ গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকা থেকে নাঈম (৩৮) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকা থেকে এমদাদুল (৩৫) এবং নয়ারহাট এলাকা থেকে সবুজ (২৮) কে আটক করা হয়।
পরে এমদাদুলের তথ্য অনুযায়ী বগুড়া জেলার মাটিডালি এলাকা থেকে রবিন ওরফে কাটার রবিন (২৩), পারভেজ (৩০) ও তুষার (২২) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, চোরচক্রের মূল হোতা ‘ল্যাংড়া’ এমদাদুল। তার পরিকল্পনায় নাঈম ও সবুজের সহায়তায় বাসটি বগুড়ার মাটিডালি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পারভেজ, রবিন ও তুষারের মাধ্যমে বাসটির বিভিন্ন আংশ আলাদা করা হয়। পরে এসব অংশ আশুলিয়ার মোজার মিল এলাকায় আলী হোসেনের ভাঙারির দোকানে সাদ্দামের কাছে বিক্রি করা হয়।
পুলিশ পরবর্তীতে সাদ্দামকেও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানান, “এটি একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র। তারা আশুলিয়া, সাভার, ধামরাই ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন চুরি করে আসছিল।”
ওসি (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, “এই চক্রটি পূর্বেও একাধিক চুরির সঙ্গে জড়িত। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে।”
আই/এ