রাজশাহী অঞ্চলে শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রামক রোগ ‘হাম’। বিভাগের সাতটি সদর হাসপাতাল এবং চারটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় (আইপিএইচ) নিয়ে পরীক্ষা করছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি দল। তাঁরা জানিয়েছে সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৩০ শতাংশ। রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত হামে ১২ জন শিশু মারা গেছে।
রোববার (২৯ মার্চ) রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৩০ শতাংশ। গত ২৬ মার্চ পর্যন্ত এই নমুনা নেওয়া হয়। এর আগে ১৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫৩ জনের নমুনা থেকে ৪৪ জন হাম পজিটিভ রোগী পাওয়া যায়। তখন সংক্রমণের হার ছিল প্রায় ২৯ শতাংশ। আট দিনে রাজশাহী বিভাগে হামের সংক্রমণ বেড়েছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম পজিটিভ ও উপসর্গ থাকা শিশুদের হাসপাতালে আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে অন্য শিশুদের মাঝে সংক্রমক রোগটি ছড়িয়ে না পড়ে। তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক দেখা গেছে।
এদিকে, হাসপাতাল থেকে দেওয়া মৃত্যু সনদে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য রোগ উল্লেখ করা হলেও ‘হাম’ শব্দটি অনুপস্থিত। এতে রোগটির প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আড়াই মাস বয়সী জহির নামের এক শিশুর মৃত্যু সনদে ‘হাম’ উল্লেখ পাওয়া গেছে।
শিশুটির মা জানান, তার সন্তানকেও আলাদা না রেখে সাধারণ ওয়ার্ডেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। ভর্তি হওয়ার তিন দিনের মাথায় গত ১৮ মার্চ সকালে শিশুটি মারা যায়।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহিদা ইয়াসমিন বলেন, আমাদের ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত ২৫ জন শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে এর মধ্যে কিছু ছুটি হয়ে গেছে। আরো ৮০ জন শিশু র্যাস নিয়ে ভর্তি আছে যারা সন্দেহভাজন তাদের পরীক্ষা করা হবে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান জানান, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে রাজশাহী বিভাগের হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুরা ভর্তি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভাগের ২৪৬ জন শিশুর নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করেছে। এতে ৭৭ জনের হাম পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। ছোঁয়াচে এ রোগ শনাক্তের হার প্রায় ৩১.৩০ শতাংশ। আমরা হাসপাতালগুলো আইসোলেশনের ব্যাবস্থা করছি।
এরই মধ্যে পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্য যেই জায়গাগুলোতে বেশি সেগুলোতে আইসোলেশনের চেষ্টা চলছে।
আই/এ