আন্তর্জাতিক

মার্কিন সেনাদের স্বাগত জানালো ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানের খবরে কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান। দেশটির গণমাধ্যম তেহরান টাইমস ইংরেজি সংস্করণের প্রথম পাতায় শিরোনাম করেছে ‘ওয়েলকাম টু হেল’ (জাহান্নামে স্বাগতম)।

প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোনো মার্কিন সেনা যদি ইরানের মাটিতে প্রবেশ করে, তবে তারা জীবিত ফিরে যেতে পারবে না। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনার খবর প্রকাশ কিছু সময় পরই এই বার্তা দিয়েছে ইরান। 

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের ভেতরে সীমিত স্থল অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তুতির কথা বলা হলেও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার জানিয়েছেন—তিনি যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প বাড়ানো। ইতোমধ্যে প্যারাট্রুপার ও মেরিন সদস্যদের একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে।

ইরানের এক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল অভিযান শুরু করে, তবে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে সক্রিয় করা হতে পারে। এতে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল আবারও ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং সংঘাত নতুন মাত্রা পেতে পারে।

এদিকে, অতিরিক্ত মার্কিন সেনারা কোথায় অবস্থান নেবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান ও তার গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কাছাকাছি এলাকায় তাদের মোতায়েন করা হতে পারে।

অন্যদিকে, ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে লেবাননের বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসী হামলা চালায় ইসরাইল। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রও এই অভিযানে যোগ দেয়। যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

এর জেরে ২ মার্চ থেকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। পাল্টা জবাবে ইসরাইল লেবাননের দক্ষিণ, পূর্বাঞ্চল ও বৈরুতের উপশহরগুলোতে বিমান হামলা চালায় এবং পরবর্তীতে সীমিত স্থল অভিযান শুরু করে।

এদিকে, সংঘাতের ধারাবাহিকতায় ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরান #যুক্তরাষত্র #যুক্তরাষ্ট্র