ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সংকটের সমাধান দেখতে চান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, ট্রাম্প মনে করছেন অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের আগেই সংঘাত নিরসনের আশা করছে ওয়াশিংটন। বৈঠকটি মে মাসের মাঝামাঝি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই যুদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। একদিকে আন্তর্জাতিক সংকট সামলানো, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন—দুই দিকেই তাকে সমান গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভেতরেও মতভেদ রয়েছে। কেউ কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে, আবার কেউ কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে বলছেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, ট্রাম্প শান্তিপূর্ণ সমাধান চান। তবে ইরান বাস্তবতা মেনে না নিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক কিছু আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনায় পরিকল্পিত হামলা আপাতত স্থগিত রেখেছে। যদিও ইরান এমন কোনো আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
লেভিট আরও বলেন, ইরান যদি নিজেদের সামরিকভাবে দুর্বল অবস্থান স্বীকার না করে, তাহলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তার ভাষায়, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শক্ত অবস্থান নেবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এতে পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন শর্ত রয়েছে। তবে তেহরান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিজেদের শর্তে যুদ্ধবিরতির কথা বলেছে। ইরানের পক্ষ থেকে পাঁচটি শর্ত তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে আগ্রাসন বন্ধের দাবি অন্যতম।
সম্ভাব্য সরাসরি বৈঠক, যেমন পাকিস্তানে আলোচনার গুঞ্জন নিয়ে মুখপাত্র বলেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়।
প্রসঙ্গত, গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসী হামলা চালায় ইসরাইল। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রও এই অভিযানে যোগ দেয়। যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
এই আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু হয়। এই সামরিক উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
এমএ//