আন্তর্জাতিক

মিসাইলের তীব্র সংকটে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অন্যতম শক্তিশালী দূরপাল্লার অস্ত্র টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকটে পড়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক জ্যাক বাকবি। দীর্ঘ সময় ধরে চলা উচ্চ তীব্রতার বিমান অভিযানে ইরানের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করতে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়েছে। এতে মার্কিন সামরিক ভাণ্ডারে থাকা টমাহকের মজুদ আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র কয়েক দশক ধরে পেন্টাগনের অন্যতম নির্ভরযোগ্য দূরপাল্লার অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। প্রায় এক হাজার মাইল পাল্লার এই নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্র ব্যবহার করে পাইলট বা দামি যুদ্ধবিমানকে ঝুঁকিতে না ফেলেই শত্রুপক্ষের গভীর অভ্যন্তরে থাকা স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা সম্ভব। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের রাডার ফাঁকি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করতে এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রই ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর প্রধান ভরসা।

তবে বিপুল ব্যবহারের তুলনায় নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির গতি অত্যন্ত ধীর হওয়ায় বড় ধরনের শিল্প ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রায় চার হাজার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ছিল, যা দ্রুত কমে আসছে। অন্যদিকে ঐতিহাসিকভাবে পেন্টাগন বছরে গড়ে মাত্র প্রায় ৯০টি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যা বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির চাহিদার তুলনায় খুবই কম।

একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সরবরাহ শৃঙ্খল জটিল হওয়ায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। যদিও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরটিএক্স করপোরেশন বছরে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তবুও সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে কয়েক বছর সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিটি টমাহক ব্লক-ফাইভ সংস্করণের ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ১৩ লাখ মার্কিন ডলার, যা পেন্টাগনের বাজেটের ওপরও চাপ তৈরি করছে। মার্কিন নৌবাহিনী আশির দশক থেকে এ পর্যন্ত প্রায় নয় হাজার টমাহক সংগ্রহ করলেও তার একটি বড় অংশ মহড়া ও বিভিন্ন যুদ্ধে ইতিমধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানের বিশাল ভূখণ্ড এবং জটিল ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে সেখানে দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি।

ওহাইও শ্রেণির সাবমেরিনের মতো বড় নৌযান একেকবারে ১৫৪টি টমাহক বহন করতে সক্ষম, যা মার্কিন নৌবাহিনীর আঘাত হানার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ব্যাহত হলে এই শক্তিশালী নৌযানগুলোর কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে।

বিশ্লেষক বাকবির মতে, সরবরাহ ব্যবস্থার এই সংকট দুই হাজার ত্রিশ দশকের শুরু পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুত অস্ত্রের মজুদ বাড়ানো। কারণ আধুনিক যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক দক্ষতার লড়াই নয়, বরং শিল্প সক্ষমতা ও রসদ সরবরাহের প্রতিযোগিতায়ও পরিণত হয়েছে। যদি উৎপাদনের ধীর গতি কাটিয়ে ওঠা না যায়, তবে ইরান অভিযানের পরবর্তী পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল বেছে নিতে হতে পারে।

সুত্র:  নাইনটিন ফর্টিফাইভ

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #ক্ষেপণাস্ত্র #সংকট