সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার একটি কারখানায় দাঁতের মাজন ও ইঁদুর মারার ওষুধ তৈরির নামে গোপনে হারপিক ও মশা নিধনকারী কয়েল তৈরির প্রমাণ পেয়েছে জেলা প্রশাসন। অনিয়মের প্রমাণ মেলায় কারখানা কর্তৃপক্ষকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কারখানার মালিক নজরুল ইসলাম কাওয়াকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার শাহানগাছা এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হোসাইন এ অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
তিনি জানান, কাগজপত্রে কারখানাটি দাঁতের মাজন, ইঁদুর ও পিঁপড়া নিধনকারী ওষুধ তৈরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে সেখানে হারপিক ও মশা মারার কয়েল উৎপাদন করা হচ্ছিল। এছাড়া দাঁতের মাজনে নিম ব্যবহারের দাবি করা হলেও উৎপাদনের সময় সেই উপাদান ব্যবহার করা হয়নি।
অভিযানের সময় বিএসটিআইয়ের কোনো অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের প্রমাণ মেলে। এমনকি গরু ও হাঁস-মুরগির জন্য ওষুধও তৈরি করা হচ্ছিল অনুমতি ছাড়া। উৎপাদিত অনেক পণ্যের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখও উল্লেখ করা হয়নি।
এসব অনিয়মের দায়ে কারখানার ম্যানেজারকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করলে তাকে এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
তিনি আরও বলেন, কারখানাটি বৈধভাবে পরিচালনার জন্য এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিতে হবে এবং একটি পরীক্ষাগার (ল্যাব) স্থাপন করতে হবে। এ বিষয়ে কারখানার মালিক লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের পর আবারও পরিদর্শন করা হবে। শর্ত পূরণ না হলে কারখানাটি সিলগালা করা হবে।
অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, ক্যাবের প্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আই/এ