ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ রাশিয়ায় পাঠাতে প্রস্তুত। এই প্রস্তাব ২০১৫ সালের জেসিপিওএ চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারার সঙ্গে মিল রাখে। খবরটি জানিয়েছে জর্ডানভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম রোয়া নিউজ।
সম্প্রতি মস্কো সফরে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন। বৈঠকে তিনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ব্যক্তিগত বার্তাও পুতিনের কাছে পৌঁছে দেন।
সূত্রের খবর, আলোচনা চলাকালীন পারমাণবিক ইস্যুর সমঝোতার অংশ হিসেবে রাশিয়ায় ইউরেনিয়াম পাঠানোর বিষয়ে ইরানের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
এই প্রস্তাব এমন সময়ে আসে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়ছে। বর্তমান মার্কিন প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, পারমাণবিক কেন্দ্রিক আলোচনায় সমাধানের বিষয়ে তেহরান আশাবাদী, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অতীত অভিজ্ঞতা দেখিয়ে তিনি আস্থাহীনতার কথাও তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে ২০১৮ সালে ওয়াশিংটন একতরফা চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, তারা পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে চায় না। বরং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি আঞ্চলিক পারমাণবিক কনসোর্টিয়াম গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম দেশটির বাইরে পরিচালিত হবে। রাশিয়া এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে আগ্রহী।
ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উদ্বেগ বিবেচনায় রেখে উত্তেজনা কমাতে মস্কো ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
জেসিপিওএ চুক্তির আওতায় অতীতে ইরানের অতিরিক্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক আগ্রাসন হয়, তা পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা করতে পারে। এই সতর্কবার্তার মধ্যে আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে, যেখানে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরী মোতায়েন রয়েছে।
ইরান স্পষ্ট করেছে, সম্ভাব্য আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না; আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকবে কেবল পারমাণবিক ইস্যুতে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত কোনো বিধিনিষেধ ছাড়া চুক্তি তাদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে তারা অস্তিত্বগত ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, মিসর, কাতার, তুরস্ক ও ওমানের মধ্যস্থতায় আগামী শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরব কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইস্তানবুলে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন, যেখানে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয় আলোচনার তালিকায় থাকবে।
এসি//