শীতের কনকনে ছোঁয়ায় জানুয়ারি যেন তার প্রকৃত রূপে হাজির। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই দেশজুড়ে নেমে আসে ঘন কুয়াশা, বাতাসে জমে থাকে হাড় হিম করা ঠান্ডা। মাঠ-ঘাট, নদী-নালা, জনপথ—সবখানেই শীতের নিঃশব্দ দাপট। চলতি বছরের শীতলতম এই মাসে শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে পুরো দেশ।
শনিবার (০৩ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরের জেলা সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁয় এই তাপমাত্রা নেমে আসে এক অঙ্কে, যা শীতের তীব্রতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডার প্রভাবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় পড়েছে বাড়তি চাপ।
এর মধ্যেই আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে, কারণ তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে ২ থেকে ৩টি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার, যেখানে তাপমাত্রা থাকবে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি বা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। পাশাপাশি ১ থেকে ২টি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে মাঝারি থেকে তীব্র, যেখানে তাপমাত্রা নামতে পারে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি কিংবা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদ-নদী অববাহিকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনাও রয়েছে। কখনও কখনও এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফলে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গিয়ে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠবে। দেশের সাত জেলায় গতকাল শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। আগের দিন বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) ১৭ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল। আবহাওয়া অফিস বলছে, আজ শনিবার দেশের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। এতে শীত কিছুটা কমতে পারে। আগামীকাল রোববার (০৪ জানুয়ারি) থেকে তাপমাত্রা আবার কমা শুরু হতে পারে।
শীতের এই প্রকোপ নতুন নয়। বাংলাদেশের আবহাওয়া ইতিহাসে জানুয়ারি মাস বারবারই রেকর্ড ভাঙা শীতের সাক্ষী হয়েছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রার দিক থেকে স্মরণীয় হয়ে আছে ২০১৮ সাল। সে বছরের জানুয়ারিতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমে এসেছিল মাত্র ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে—যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। একই বছরে রংপুর বিভাগের সৈয়দপুরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তখন নীলফামারীর ডিমলা, কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ছিল তিন ডিগ্রির ঘরে—যথাক্রমে ৩, ৩ দশমিক ১ ও ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এর আগেও শীত তার ভয়াল রূপ দেখিয়েছে। ২০১৩ সালে রংপুর, দিনাজপুর ও সৈয়দপুরে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৫, ৩ দশমিক ২ ও ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তালিকায় আছে রাজশাহীও। ২০০৩ সালে সেখানে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এখনো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার অন্যতম নজির হয়ে আছে।
এসি//