স্বাস্থ্য

ছয় মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে দেশের পাঁচ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল

বায়ান্ন প্রতিবেদন

ছবি: সংগৃহীত

শিশুস্বাস্থ্য সেবার পরিধি বাড়াতে  আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী আগস্টের প্রথম দিকে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি চালু করার লক্ষ্যে সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালগুলো আধুনিক চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে শয্যা ও সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহের দরপত্র প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বরিশাল ও খুলনার শিশু হাসপাতাল দুটি দ্রুত চালুর লক্ষ্যে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী আগস্ট মাসের শুরুতেই বরিশাল শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হতে পারে।                           

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লার হাসপাতাল ভবন পরিদর্শন করে অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শিশু হাসপাতালগুলো চালুর জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, যেমন ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে মেশিন, কার্ডিয়াক মনিটর ও ফটোথেরাপি ইউনিট নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরবরাহ করা হবে।

হাসপাতালগুলোর পূর্ণাঙ্গ পরিচালনার জন্য বিপুল জনবলের প্রয়োজন হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিটি হাসপাতালে প্রায় ১ হাজার ৪৭৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রয়োজন হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও পদায়নের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, চলতি বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় থাকা শিশু হাসপাতালগুলো দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো হাসপাতালগুলো কার্যকর করার উদ্যোগ জোরদার করে।

রংপুরের বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার পর নতুন করে চালুর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। একইভাবে কুমিল্লা ও রাজশাহীর হাসপাতালগুলোতেও জনবল, যন্ত্রপাতি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে চলছে। রাজশাহী শিশু হাসপাতালে প্রথম ধাপে বহির্বিভাগ (আউটডোর) সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হাসপাতালগুলো চালু হলে বিভাগীয় পর্যায়ে শিশুদের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসা নির্ভরতা কমবে এবং শিশুস্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

 

পি/ডি 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #শিশুস্বাস্থ্য #২০০ শয্যাবিশিষ্ট #শিশু হাসপাতাল