নিখোঁজের একদিন পর লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুর মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তের বাড়ি ঘরে আগুন দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে জেলা প্রশাসক, এসপি ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় ১৮ পুলিশ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের একটি গ্রামের ভুট্টাক্ষেত থেকে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো সোমবার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলতে যায় শিশুটি। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তবে কোনও সন্ধান পাননি। আজ সকালে গ্রামের লোকজন একটি ভুট্টাক্ষেতের কিছু গাছ ভাঙা ও কাঁচা মাটি দেখে সন্দেহ করেন। পরে সেখানকার একটি গর্তের ভেতর বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর তারা থানায় গিয়েছিলাম। এ সময় ওসি ঘুষ দাবি করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও ওসি তা নেননি। আরও বেশি টাকা দাবি করেন।
স্থানীয়রা জানান, লাশ উদ্ধারের পর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায়কে (২০) আটক করে পুলিশ। তাকে আটকের পর থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা পুলিশের পথরোধ করে এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা বিধানের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনের গাড়িতেও ভাঙচুর চালায়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং ইউএনওসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। প্রশাসন স্থানীয়দের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে। আসামিকে নিয়ে ফিরে আসার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুনরায় প্রশাসনের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে ডিসি, এসপি এবং ইউএনও’র ব্যবহৃত সরকারি সাতটি গাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, ‘মূল অভিযুক্তকে নিয়ে আসার সময় পুলিশের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে এ ঘটনায় একটি মামলা করা হবে।
তিনি বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি ও শিশুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক আছে। পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আই/এ