কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়াকে হাসপাতাল থেকে আদালতে নেওয়া হয়েছে। এর আগে জিসান সুস্থ আছে বলে হাসপাতাল থেকে গতকাল ছাড়পত্র দেয়া হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. বারী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেয়ে জিসানকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে। বর্তমানে জিসান ডিবি হেফাজতে আছেন। তারা তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে নিয়ে যাবেন।
এর আগে গ্রেপ্তার জিসান সুস্থ না অসুস্থ—এ বিতর্ক এড়াতে রোববার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে।
কুমেক হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহজাহান জানান, মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের পর বেশ কিছু পরীক্ষা করা হয়। এতে জিসান সুস্থ বলে প্রমাণ পাওয়ায় তাকে আজ রিলিজ দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার জানিয়েছিলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া এক বিধবা নারীর সাথে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান তাকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বিয়ের জন্য চাপ দিলে পরদিন ১২ জুন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১১ জুন রাতেই জিসান আত্মগোপনে চলে যান।
এ সময় জিসানের আত্মীয় সে নিখোঁজ বলে থানায় সাধারণ ডায়েরী করে। গত শুক্রবার রাতে জেলার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতে ওই নারী বাদী হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে এবং ধর্ষণের সহায়তায় আরও তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর থেকে সে পুলিশ প্রহরায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
আই/এ