ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে সমাবেশ চলাকালে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও বেকারত্বের প্রতিবাদে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তিনি ওই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।
সোমবার (১৫ জুন) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এপিবি আনন্দ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জয়পুরে অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হন। সমাবেশ চলাকালে সমর্থকদের কাঁধে চড়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় ভিড়ের মধ্য থেকে কেউ তাকে চড় মারেন বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানান অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা ভয় ও কাপুরুষতার বহিঃপ্রকাশ। তবে তাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবেই চলবে। নিজেকে গান্ধী ও আম্বেদকরের অনুসারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি ও ভালোবাসার পথ ধরেই তারা প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন।
অভিজিৎ বলেন, জয়পুরের প্রতিবাদ কর্মসূচি বড় পরিসরে হয়েছে এবং বহু মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন। তার দাবি, শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলন দিন দিন আরও বড় হচ্ছে। হামলার ঘটনাকে তিনি আন্দোলনকারীদের ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন।
তিনি জানান, এসব ঘটনার মাধ্যমে তাদের লক্ষ্য থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তারা লক্ষ্যচ্যুত হবেন না। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
অভিজিৎ বলেন, একবার নয়, দশবার চড় মারলেও তারা একই দাবি জানিয়ে যাবেন—ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন; আন্দোলনের মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষ যতই হামলা করুক, তারা পাল্টা হামলার পথে যাবেন না। আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকবে এবং ভালোবাসা ও অহিংস পদ্ধতিতেই তারা এগিয়ে যাবেন। যারা ঘৃণা ছড়াচ্ছেন, তাদের প্রতিও সুস্থতা কামনা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গেল ১৫ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণদের নিয়ে ‘তেলাপোকার মতো’ মন্তব্য করেছেন—এমন অভিযোগ ওঠে। এ মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও ব্যঙ্গ শুরু হয়।
সেই বিতর্কের ধারাবাহিকতায় অনলাইনে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগের আত্মপ্রকাশ ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ভারতীয় তরুণ অভিজিৎ দীপকে এক্সে লেখেন, “সব তেলাপোকা যদি একজোট হয়?” এরপরই তিনি ককরোচ জনতা পার্টির নামে ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ চালু করেন।
এমএ//