আন্তর্জাতিক

হামলার জবাব দিতে কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা মানা হবে না: মোজতবা খামেনি

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে সামরিক হামলা চালালে এর জবাব শুধু দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দিতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা আরও বিস্তৃত করার নির্দেশও দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন মোজতবা খামেনি।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন শেষে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহান্তে তিনি ইরানকে ‘একেবারে শেষ করে দেওয়ার’ কথা ভাবছেন বলে মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য এটিকে একটি ‘ঐতিহাসিক’ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এর আগে গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কোনো দল বা জোট এককভাবে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে এখনো সরকার গঠন করতে পারেনি দেশটি।

ইরান সরকারের এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনির সঙ্গে সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে শনিবার তিনি বলেছেন, ‘যেকোনো স্তরের বা ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দিতে হবে। আর এই জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা মানা হবে না।’

মোজতবা খামেনির সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। এ সময় সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন তিনি। তালিকায় ‘আমেরিকান ও জায়নবাদী শত্রুদের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব ধরনের সম্পদ’ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি, সেনাপ্রধান আমির হাতামি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমাদ ওয়াহিদি।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সম্পদ লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ থাকলেও নতুন করে সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।

এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে শুক্রবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে পৌঁছেছেন। এছাড়া মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মহসেন রেজায়ির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

তবে শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ‘বর্তমানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।’

এদিকে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকারামিনিয়া।

তিনি সতর্ক করে বলেন, নতুন করে শত্রুতা শুরু হলে যুদ্ধের আগুন আরও বড় ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন