প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত বিবেচনা করবে: তথ্য উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর শেষে দেশে ফেরার পর পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আইজিপির মূল বক্তব্য থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত পাওয়া অসম্ভব নয়। অনেকে বক্তব্যটিকে সেভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন।
তবে আইজিপি তার আগের বক্তব্যে অনড় থাকেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বক্তব্যটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ার পর আইজিপি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আইজিপির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর শেষে তা বিবেচনা করবেন।
মুক্তিযোদ্ধাকে কবর দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ঘটনায় একটি রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য সামনে এসেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এর সঙ্গে জড়িতদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তিনি বলেন, মৃত্যুর পর একজন মানুষের মরদেহের সঙ্গে এমন আচরণ কেউ ভালোভাবে নেননি। অতীতেও বিচারপ্রক্রিয়ার পর কয়েকজনের মরদেহের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করা হয়েছিল। তবে ওই বিচারগুলোর পক্ষে থাকা ব্যক্তিরাও এমন আচরণ সমর্থন করেননি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, মৃত্যুর পর একজন মানুষের বিচার সৃষ্টিকর্তার কাছে হবে। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, তারা শেষ পর্যন্ত সমাজে নিন্দিত হবেন। এসব কাজ করে মানুষের প্রশংসা বা সমর্থন পাওয়া যাবে না।
চব্বিশ-পরবর্তী সময়ে মৌলবাদী ও অতি ডানপন্থি উগ্রবাদীদের তৎপরতা এবং টঙ্গীতে এক শিশুকে নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার এসব ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। টঙ্গীর ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার এসব ঘটনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, বিষয়টি এমন নয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে এসব প্রবণতা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সরকার তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি, ভবিষ্যতেও আসবে না।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও সরকার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনার সময়ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছিল।
এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সম্মতি দিয়েছে—এমনভাবে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সরকারের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এমএ//