রাজধানী

শরতের বাতাসে আগমনী সুর, শুক্রবার বাজবে ঢাকের বাদ্য

ভক্তির ঘণ্টাধ্বনিতে মুখর মন্দির, শরতের বাতাসে ভাসছে আগমনী সুর। হাওয়ার কানে কানে বার্তা, মর্ত্যে আসছেন দুর্গতিনাশিনী। মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দেবী দুর্গার আগমনের ক্ষণগণনা। অপেক্ষা মাত্র আর একটি সূর্যাস্তের, এরপরই ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিনের শারদীয় উৎসব। শরতের স্নিগ্ধ আবহে নগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গোৎসবের আমেজ। দেবীকে বরণ করে নিতে তাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের আয়োজকেরা।

এবার রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপে সাজসজ্জার মূল ভাবনায় স্থান পেয়েছে জল ও জলকেন্দ্রিক মানুষের জীবনযাত্রা। বিশ্বজুড়ে জলসম্পদ, নদী ও পানির অধিকার নিয়ে নানা আলোচনা-উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়কে উপজীব্য করে তৈরি করা হচ্ছে মণ্ডপের নকশা। সাজসজ্জায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে জলের সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক।

বনানী মণ্ডপের মূল ভাবনাশিল্পী পার্থ প্রতীম সাহা গণমাধ্যমকে জানান, জলজ জগতের সৌন্দর্যের প্রতীক ঝিনুক ও শঙ্খকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে প্রতিমার পেছনের সাজসজ্জা। প্রতিমা স্থাপনের পর এর রং ও দাঁড়ানোর ভঙ্গিতেও জলজ জগতের আবহ ফুটিয়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে ধানমন্ডি এলাকার অন্যতম বৃহৎ দুর্গাপূজার আয়োজন হচ্ছে কলাবাগান মাঠে। সেখানেও প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিমা আসার আগেই নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল দিচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা।

কলাবাগান মাঠের মণ্ডপের শিল্পী জানান, সাজসজ্জার বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয় সাধনের পাশাপাশি শেষ মুহূর্তের সূক্ষ্ম কাজগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে। এরপরই শুরু হবে আলোকসজ্জা স্থাপনের কাজ।

শারদীয় দুর্গোৎসবে ভক্তদের অন্যতম আকর্ষণ রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির। উৎসবকে সামনে রেখে সেখানেও বাড়তে শুরু করেছে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আনাগোনা। কেউ প্রার্থনা ও আরতিতে অংশ নিচ্ছেন, আবার কেউ মুঠোফোনে ধারণ করছেন উৎসবের মুহূর্তগুলো।

সামগ্রিক পরিবেশ ও সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস বলেন, এবার পূজার অনুদান বাড়ানোয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। অনুদান ও ছুটির সংখ্যা বাড়ায় উৎসবের আয়োজন আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছি।

এবার ঢাকা মহানগরে ২৫৭টি এবং সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। বিপুলসংখ্যক মণ্ডপ ঘিরে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি ও উৎসবের নানা আয়োজন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, বছর ঘুরে আবারও কৈলাশ ছেড়ে পাঁচ দিনের জন্য মর্ত্যে বাবার বাড়িতে আসছেন দেবী দুর্গা। এবার দেবীর আগমন হবে ঘোড়ায় চড়ে। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় ঘোড়ায় আগমনকে কিছুটা অস্থিরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। এ কারণে ভক্তদের মনে রয়েছে কিছুটা শঙ্কাও। তবে বিদায়ের সময় দেবী নৌকায় চড়ে কৈলাশে ফিরে যাবেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, নৌকায় গমন পৃথিবীতে শস্য ও জলসমৃদ্ধির বার্তা বহন করে।

আনন্দ, আরাধনা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেবীকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত রাজধানী। মণ্ডপের নান্দনিক সাজসজ্জা, আলোকবাতি আর ভক্তদের পদচারণায় শিগগিরই মুখর হয়ে উঠবে নগরী। শরতের শুভ্রতা আর আগমনী সুরের সঙ্গে শুরু হবে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের বহুল প্রতীক্ষিত শারদীয় দুর্গোৎসব।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন