দেশজুড়ে

ময়মনসিংহে বিজিবির গুলিতে যুবকের মৃত্যু, বিক্ষোভে উত্তাল এলাকা

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) গুলিতে নোমান মিয়া নামে ৩০ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা হালুয়াঘাট-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার তেলিখালী সীমান্ত ফাঁড়ির আওতাধীন ঝলঝলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নোমান মিয়া হালুয়াঘাটের এক নম্বর ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বেতকুড়ী গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাঘাইতলা বাজারের ইজারাদার ছিলেন।

নোমানের ছোট ভাই আবু রাইহানের অভিযোগ, রাতে বিজিবি সদস্যরা এলাকায় গরু খুঁজছিলেন। পরে ফোন পেয়ে তার ভাই ঝলঝলিয়া গ্রামে যান। সেখানে বাঘাইতলা বাজারের ইজারাসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে নোমানকে গুলি করা হয়।

আবু রাইহান আরও অভিযোগ করেন, ভোর সাড়ে চারটার দিকে গুলিবিদ্ধ হলেও প্রায় তিন ঘণ্টা নোমানকে ঘটনাস্থলেই আটকে রাখা হয়। এ সময় তাকে হাসপাতালে নিতে দেওয়া হয়নি, এমনকি কাউকে তার কাছে যেতেও দেওয়া হয়নি। পরে সকাল সাতটার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের দাবি, দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে নোমানকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারত।

তবে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে বিজিবি।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোর পৌনে ছয়টার দিকে ঝলঝলিয়া এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায় বিজিবির একটি টহলদল। এ সময় চোরাচালানের পণ্য জব্দ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জব্দ করা পণ্য নিয়ে ফেরার পথে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা বিজিবির সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে মৌখিক সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এরপরও হামলা চলতে থাকলে বিজিবির এক সদস্য আহত হন। পরে নিজেদের জীবন ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হলে নোমান মিয়া গুলিবিদ্ধ হন।

বিজিবি আরও জানায়, গুলিবিদ্ধ নোমানকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে নোমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা হালুয়াঘাট-ময়মনসিংহ প্রধান সড়কে জড়ো হয়ে কাঠের গুঁড়ি ও বিভিন্ন বস্তু ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই পাশে আটকে পড়ে শত শত যানবাহন। দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সড়ক অবরোধ চলছিল। পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন, বিজিবির গুলিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঠিক কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে।

 

এসি//

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন