ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মসজিদ-মন্দির-গির্জায় প্রচারণার নির্দেশ
দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশের মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সমন্বয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ১২ অক্টোবর থেকে সারা দেশে একযোগে থানা ও পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড থানা তথ্যভাণ্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ তৈরি করা হয়েছে।
চিঠিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ে মসজিদে এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জায় প্রচারণামূলক বার্তা প্রচারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
প্রচারবার্তায় জানানো হয়েছে, সরকারের প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে কোন পরিবার বেশি সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করছে, তা নির্ধারণ করা হবে। এ কারণে তথ্য সংগ্রহের সময় নিজেদের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা তুলে ধরে সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
মসজিদে জুমার নামাজের আগে তিন মিনিটের ঘোষণায় পরিবারের সঠিক তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে সতর্ক করা হবে। ঘোষণায় বলা হবে, ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কেউ টাকা চাইলে তার কথায় বিশ্বাস করা যাবে না। তথ্য দিতে কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে, মন্দির, গির্জা ও বিহারে দুই মিনিটের ঘোষণায় সঠিক তথ্য দেওয়ার আহ্বানের পাশাপাশি বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার কথা বলা হবে। তথ্য সংগ্রহের সময় যেন কোনো পরিবার বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে অনুরোধ জানানো হবে।
প্রচারবার্তায় আরও বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের নামে কেউ অর্থ দাবি করলে ১০৯৮ নম্বরে জানাতে হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চিঠির অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।