অপরাধ

মুক্তিপণ দিয়েও রক্ষা হয়নি রাকিবের, ঢাকায় হত্যা করে নীলফামারীতে নেয়া হয় মরদেহ

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কাফরুলে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাফরুল থানা পুলিশ।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, মুক্তিপণের জন্য রাকিবকে অপহরণের পর ঢাকায় হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ নীলফামারীর ডিমলায় নিয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাকিব পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি মেসে থাকতেন। এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন তিনি। গেল ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে তাকে বাইরে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

পরে রাকিবের পরিবারের কাছে ফোন ও অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে কয়েক দফায় মোট ৪ লাখ টাকা পাঠান।

রাকিবের নিখোঁজের ঘটনায় তার বড় ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা করা হয়।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মুক্তিপণ দাবিতে ব্যবহৃত দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের সূত্র ধরে মামুনকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মামুন দাবি করেছে, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর হোয়াটসঅ্যাপে কল করে রাকিবকে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে ডেকে নেয় সে। পরে তাকে শুক্রাবাদে নিজের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়ার একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় রাকিবের ঘাড় মটকে দিলে তার মৃত্যু হয় বলে মামুন পুলিশকে জানিয়েছে।

পুলিশের দাবি, রাকিবের মরদেহ কার্টনে ভরে কসটেপ দিয়ে মুড়িয়ে অটোরিকশায় গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যায় মামুন। পরে বাস ও অন্যান্য যানবাহনে করে নীলফামারীর ডিমলায় যায়। সেখানে ১৭ সেপ্টেম্বর নিজের বাড়ির সামনে একটি সুপারি বাগানে গর্ত করে কার্টনসহ মরদেহ মাটিচাপা দেয়।

মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর বিকেলে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় ওই স্থান থেকে কার্টনের ভেতর রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার বড় ভাই জীবন মরদেহ শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামুনের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত কি না, মুক্তিপণের অর্থের লেনদেনসহ ঘটনার অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে কাফরুল থানা পুলিশ।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন