ফিলিপাইনে ফেরিতে আগুন, নিহত ৫, নিখোঁজ ৮৭
ফিলিপাইনের পালাওয়ান প্রদেশের পর্যটনকেন্দ্র করোনের কাছে একটি ফেরিতে আগুন লেগে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর এখনো ৮৭ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্টগার্ড।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় উপকূল থেকে প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরে এম/ভি জুন অ্যাস্টার ফেরিটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ফেরিটির বড় একটি অংশ জ্বলতে থাকে। কোস্টগার্ড প্রকাশিত ভিডিওতেও আগুনে পুড়তে থাকা ফেরিটির দৃশ্য দেখা গেছে।
কোস্টগার্ডের ক্যাপ্টেন নোয়েমি কায়াবিয়াব বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি রেডিওকে বলেন, এ পর্যন্ত ৪২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৮ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু সদস্য।
তিনি জানান, ফেরিতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে মোট ১৩৪ জনের তালিকা ছিল। এখন পর্যন্ত উদ্ধার ও হতাহতের হিসাব অনুযায়ী ৮৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় এ সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ তীরে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজও চলছে। আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বুধবার রাত পর্যন্ত ৪৩ জনকে উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছিল।
রাজধানী ম্যানিলা থেকে ছেড়ে পালাওয়ান প্রদেশের করোনের কাছে পৌঁছানোর সময় ফেরিটিতে আগুন লাগে। কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।
৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে নৌদুর্ঘটনা নতুন নয়। মৌসুমি বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দেশটিতে নৌযাত্রা প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতীতের বিভিন্ন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করার অভিযোগও উঠেছে।
এর আগে গত জানুয়ারিতে বালুক-বালুক দ্বীপের কাছে ৩৫০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু নিয়ে একটি ফেরি ডুবে যায়। ওই ঘটনায় অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারান।
এমএ//